
সায়নী ঘোষ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 20 July 2024 19:32
ধর্মতলায় আচার মেনে একুশের মঞ্চের খুঁটি পুজো করেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী। এবারও করেছেন। তবে সাংগঠনিক ভাবে আসলে একুশের সমাবেশের আয়োজক হলেন যুবরা। দলের যুব সভাপতি থাকাকালীন একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি পর্ব থেকে গোটাটারই তদারকি করতেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, ২০২৬ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলের সেই যুব সংগঠনেও রদবদল করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল সূত্রে আরও জানা গেছে, সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা হয় সায়নী ঘোষের। সায়নী এখন যাদবপুর লোকসভার সাংসদ। মমতা তাঁকে জানিয়েছেন, জেলা ধরে ধরে নতুন সভাপতি নির্বাচনের জন্য তিনি যেন একটি তালিকা তৈরি করে পাঠান। সেই মোতাবেক তালিকা তৈরি করে রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর কাছে ইতিমধ্যে পেশ করেছেন সায়নী।
এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়ার জন্য দ্য ওয়ালের তরফে সায়নী ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা হয়েছিল। সায়নী অবশ্য এদিন একুশের সভার প্রস্তুতির জন্য ব্যস্ত ছিলেন। তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তিনি টেক্সট মেসেজের জবাব দিলে এই প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।
তবে কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ এক নেতা শনিবার বলেন, দু'টি কারণে জেলায় যুব সভাপতি বদল জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথমত, কয়েক জনের পারফরমেন্স ভাল নয়। কিছু অভিযোগও রয়েছে। আর দুই, এক জনকে অনেক দিন ধরে পদে না রেখে নতুনদেরও সুযোগ দেওয়া দরকার।
তিনি আরও বলেন, সায়নী যে তালিকা পাঠিয়েছেন তা চূড়ান্ত মনে করার কারণ নেই। বরং সেটা সায়নীর সুপারিশ বলা যেতে পারে। এ ব্যাপারে জেলা থেকেও ইনপুট নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর আলোচনার মাধ্যমে তালিকা চূড়ান্ত হবে।
একুশের সমাবেশের পর দিন অর্থাৎ ২২ জুলাই দিল্লিতে যাওয়ার কথা অভিষেকের। ওই দিন থেকে সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সংসদের এই অধিবেশন চলাকালীন লম্বা সময় অভিষেক দিল্লিতে থাকতে পারেন। লোকসভায় বাজেট বিতর্কে তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রথম বক্তা হতে পারেন তিনি। ঘটনাচক্রে ২৫ জুলাই আবার ৩ দিনের জন্য দিল্লিতে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাট সূত্রের মতে, সংগঠনের রদবদলের ব্যাপারে দিল্লি সফরে দিদি ও অভিষেকের মধ্যে সবিস্তার আলোচনা হতে পারে।
তৃণমূলের যুব সংগঠনের সবচেয়ে বড় বদল হয়েছিলেন ২০২১ সালে ভোটের পর। ওই ভোটের পর দলের যুব সভাপতির পদ থেকে মূল সংগঠনের দায়িত্বে উত্তরণ ঘটে অভিষেকের। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হন তিনি। যুব সভাপতি পদে মমতা ও অভিষেক আস্থা রাখেন নবাগতা সায়নীর উপর। নয় নয় করে সায়নীরও এই পদে তিন বছর হয়ে গেছে। তৃণমূলের যুব সভানেত্রী পদেও বদল হবে কিনা সেটা অবশ্য একটা অন্য ‘ফর্মুলা'র উপর নির্ভর করছে বলে জানা গিয়েছে।