
শেষ আপডেট: 15 February 2024 10:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার রাজনীতিতে অবিষ্মরণীয় হয়ে রয়েছেন প্রয়াত অনিল বিশ্বাস। রাজ্য সিপিএমে তাঁর মতো দ্বিতীয় কোনও নেতা আজও তৈরি হয়নি। তাঁর মেয়ে অজন্তা বিশ্বাস যে সিপিএম দলটাই ছেড়ে দিয়েছেন, সেই খবর ২০২২ সালের ১৬ এপ্রিল সবার আগে দ্য ওয়ালেই প্রকাশিত হয়েছিল।
প্রেসিডেন্সিতে পড়ার সময়ে ছাত্র ফ্রন্ট থেকে পার্টিতে এসেছিলেন অজন্তা। প্রায় দু’দশক পর ২০২২ সালে সিপিএমের সদস্যপদই ছেড়ে দেন অনিল কন্যা। সে বছর সিপিএমের সদস্যপদ আর রিনিউ করেননি তিনি।
লোকসভা ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে ফের উঠে আসছে অনিল কন্যার নাম। দ্য ওয়ালের কাছে প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে খবর যে লোকসভা ভোটে অজন্তাকে প্রার্থী করার ব্যাপারে বিবেচনা করছেন তৃণমূলের দুই শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই বিষয়টি অবশ্য তখন খুবই অপরিণত অবস্থায় ছিল। কিন্তু সূত্রের দাবি, এখন তা নিয়ে ‘সিরিয়াস’ আলোচনা চলছে কালীঘাট ও ক্যামাক স্ট্রিটে।
এমনিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগত ভাবে অজন্তাকে পছন্দ করেন। গত বছর দুর্গাপুজোয় অজন্তা ও তাঁর সন্তানের জন্য মুখ্যমন্ত্রী উপহার পাঠিয়েছিলেন। এবার সেই সম্পর্ক প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতির সুতোয় জুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে।
২০২১ সালের জুলাই মাসের শেষ দিকে তৃণমূলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’ পত্রিকায় একটি উত্তর সম্পাদকীয় লিখেছিলেন অজন্তা। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপিকা সেই প্রবন্ধে বাংলার রাজনীতিতে নারী শক্তির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। সেখানে বাম ও কংগ্রেস নেত্রীদের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন অজন্তা। তা ছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জননেত্রী বলে উল্লেখ করেছিলেন প্রাক্তন এসএফআই নেত্রী।
স্বাভাবিক ভাবেই ওই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় পড়েছিল সিপিএমে। প্রথমে তাঁকে শো-কজ করা হয়। অজন্তা শো-কজের জবাব দেওয়ার পর তাঁকে ৬ মাসের জন্য সাসপেন্ড করে দল।
এখন কৌতূহল হল, অজন্তাকে কোন আসনে প্রার্থী করার ব্যাপারে বিবেচনা করা হচ্ছে?
নদিয়ার করিমপুরে জন্মেছিলেন অনিল বিশ্বাস। সেই এলাকা অবশ্য মুর্শিদাবাদ লোকসভার মধ্যে পড়ে। বহুদিন ধরে অজন্তার নাম বিবেচনায় রয়েছে নদিয়ারই একটি লোকসভা আসনের জন্য। তা হল রানাঘাট। রানাঘাট লোকসভা আসনটি তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত। কালীঘাট ঘনিষ্ঠরা মনে করছেন, নদিয়ায় অনিল বিশ্বাস ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে এখনও আবেগ রয়েছে। তা ছাড়া মতুয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গেও তাঁদের পারিবারিক একটা যোগসূত্র রয়েছে বলে তাঁদের ধারণা।
রানাঘাট আসনে গত লোকসভা ভোটে প্রায় সওয়া ২ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন বিজেপির জগন্নাথ সরকার। মূলত বাম ও কংগ্রেসের ভোট বিজেপির দিকে চলে যাওয়ায় বাড়তি সুবিধা পেয়ে যান জগন্নাথ। তবে তার আগে ২০০৯ এবং ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে ওই আসনে জিতেছিল তৃণমূলই।
শাসক দল সূত্রে বলা হচ্ছে, এ ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সবটাই এখনও তরল স্তরে রয়েছে। এপ্রিল মাসে রাজ্যসভায় মেয়াদ শেষ হচ্ছে তৃণমূল সাংসদ আবীর বিশ্বাসের। একদা আবীর রানাঘাট দক্ষিণের বিধায়ক ছিলেন। মাঝে এক সময়ে ভাবা হয়েছিল যে রানাঘাট লোকসভায় আবীরকে প্রার্থী করা হবে। তবে দলের মধ্যেই অনেকে মনে করছেন আবীরকে প্রার্থী করে রানাঘাটে জেতা মুশকিল।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত তৃণমূলের আরও এক বর্তমান সাংসদের এবার টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা অতিশয় ক্ষীণ। তিনি হলেন মথুরাপুরের সাংসদ চৌধুরী মোহন জাটুয়া। তাঁর শারীরিক অবস্থা ভাল নয়। বয়সও হয়েছে প্রায় ৮৫ বছর। শাসক দলের একটি সূত্রের মতে, অজন্তার নাম মথুরাপুর আসনের জন্যও ভাবা হচ্ছে।
এখানে একটা বিষয় বলে রাখা ভাল, লোকসভা ভোটের আগে প্রতিটি রাজনৈতিক দলই প্রার্থী করার ব্যাপারে বহু নাম নিয়ে আলোচনা চালায়। শেষমেশ একটি চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হয়। তৃণমূলের ক্ষেত্রে এ ব্যাপারটা নিয়ে খুবই গোপনীয়তা থাকে। দিদির মনে কী আছে তা দলের বহু শীর্ষ সারির নেতাও জানতে পারেন না।
তবে অজন্তার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন। তিনি শেষমেশ জোড়াফুলের প্রার্থী হোন বা না হোন সেটা ভিন্ন বিষয়। সিপিএমের প্রয়াত রাজ্য সম্পাদক অনিল বিশ্বাসের মেয়ে অজন্তার নাম নিয়ে যে তৃণমূলের শীর্ষ দুইয়ের মধ্যে সিরিয়াস আলোচনা চলছে তা কম বড় ব্যাপার নয়।
গত লোকসভা ভোটে স্থানীয় সিপিএম বিধায়ক খগেন মুর্মুকে মালদহ উত্তর লোকসভা আসনে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। সেই ঘোষণা রাজ্যে বামেদের জন্য খারাপ খবর ছিল বইকি। তবে অজন্তা শেষমেশ তৃণমূলের লোকসভার প্রার্থী হলে সিপিএম সমর্থকদের কাছে তা আরও বড় ধাক্কা হতে পারে। অনেক বড়।