
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 27 February 2025 14:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বুধবার আই-প্যাকের (I-Pac) কর্তা প্রতীক জৈন যখন নবান্নে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন, তখনই ইঙ্গিতটা স্পষ্ট ছিল। তার পরও সাহস দেখিয়েছিলেন, তৃণমূলের প্রবীণ নেতা ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কল্যাণের অভিযোগ, আই প্যাক টাকা তুলে পদ দেয়, সেই টাকায় পার্টি করে। আই প্যাক অসৎ। রাজনৈতিক দল চালাতে এরকম ঠিকাদার দরকার নেই। সাত দিন পর বৃহস্পতিবার নেতাজি ইনডোরের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee on I-Pac) পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিলেন, “আই-প্যাককে নিয়ে এই সব উল্টোপাল্টা কথা বন্ধ করতে হবে।”
তৃণমূলের সভায় মমতার বক্তৃতার একটা ঘরানা। তিনি যেমন বলেন, আমার এমপিরা, আমার এমএলএ-রা, আমার জেলার সভাপতিরা, আমার যুবরা, আমার ছাত্ররা..। এদিন তারই মধ্যে বলেন, ‘আমার আই প্যাক’। এদিনের সভাস্থলে আই-প্যাকের কয়েকজন প্রতিনিধি ছিলেন। এমনকি মঞ্চের পিছনে ছিলেন আই-প্যাকের কর্মকর্তা প্রতীক জৈনও। যাঁরা তাঁদের দেখতে পাননি বা চেনেন না তাঁদের জন্য দিদির মুখে এই শব্দবন্ধই যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ ছিল।
পরে আরও স্পষ্ট করে দিদি বলেন, “বিজেপির যদি পঞ্চাশটা এজেন্সি থাকে আমাদের তো একটা থাকবে। তারা ফিল্ড সার্ভে করবেন। তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে”। তাঁর কথায়, “পিকের (পড়ুন প্রশান্ত কিশোর) আই-প্যাক এটা নয়। এটা একটা নতুন টিম। সবাই জানে এদের কো-অপারেশন কতটা। এদের নামে উল্টোপাল্টা কথা বন্ধ করুন।”
কল্যাণের আগে মদন মিত্রও আই-প্যাকের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছিলেন। তাঁরও অভিযোগ ছিল, আই-প্যাক টাকা তোলে। তবে পরে মদন মিত্র দিদির কাছে চিঠি লিখে ক্ষমা চান।
তবে তৃণমূল সূত্রের দাবি, এঁরা দুজনেই নন, দলের অনেক প্রবীণ নেতাই আই প্যাকের নামে দিদির কান ভাঙিয়েছিলেন। দলের একাংশ সেই প্রবীণ নেতার অসন্তোষ প্রশমিত করতে মমতাও এক সময়ে ‘প্যাক প্যাক মানি না’ গোছের মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু জানা গিয়েছে, পরে দিদির সঙ্গে বৈঠকে অভিষেক স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আই-প্যাককে বাদ দিয়ে ভোট লড়া সম্ভব নয়। নিচুতলায় তথা তৃণমূলস্তরে নিরপেক্ষ সমীক্ষার জন্য এরকম একটি এজেন্সি প্রয়োজন। আই-প্যাকের কাজের জন্য যাঁদের সমস্যা হচ্ছে তাঁরাই ফোঁস করছেন।
সূত্রের দাবি, এই পরিস্থিতিতে একটা রফা সূত্র বেরিয়েছে। আই প্যাকের কেউ কোনও নেতাকে ফোন করে কিছু বলবেন না। কোনও নির্দেশ বা পরামর্শ দেবেন না। তাঁরা সমীক্ষার কাজ ও প্রচার কৌশল নির্ধারনের কাজটাই করবেন।
এদিনের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তারই ইঙ্গিত দিয়েছেন ও আই-প্যাকের সমীক্ষার কথা বলেছেন। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, বাংলায় বিজেপিরও দুটো এজেন্সি কাজ করছে। একটির নাম অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্রিলিয়ান্ট মাইন্ডস এবং কোম্পানি ৩৬০ ডেটা। এঁদের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় কারচুপির চেষ্টা ও ডেটা সংগ্রহের অভিযোগও করেছেন তৃণমূলনেত্রী।