
শেষ আপডেট: 19 February 2024 18:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আধার কার্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপির চাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা প্রশ্ন তুললেন, লোকসভা ভোটের আগে হঠাৎ এত লোকের আধার কার্ড বাতিল করা হচ্ছে কেন? তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার গায়ের জোরে সব কাজ করছে।
মতুয়ারা এই ইস্যুতে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ বলেই দাবি করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, নির্বাচনের আগে বেছে বেছে কেন্দ্র এমন পদক্ষেপ করছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক জেলায় এমন ঘটনা ঘটছে। মতুয়াদের সবচেয়ে বেশি আধার কার্ড বাতিল করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তফশিলি এবং সংখ্যালঘুদের ওপরও অত্যাচার হচ্ছে। মমতার অভিযোগ, অসমের মতো ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির ভাবনা নিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু তিনি বাংলায় এনআরসি করতে দেবেন না। তাঁর কথায়, ''এখানে ডিটেইনশন ক্যাম্প হবে না। এটা অসম নয়, এটা উত্তরপ্রদেশ নয়, এটা বিহার নয়। এটা বাংলা।''
নবান্ন থেকে সোমবার কেন্দ্রের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ''লুটেরা সরকার, জমিদারদের মতো আচরণ করছে। অনেক সময়ে তাঁদেরও ছাপিয়ে যাচ্ছে। সব তথ্য নিয়ে আধার কার্ড করা হয়েছিল। পরে তার সঙ্গে ব্যাঙ্কের লিঙ্কও করা হয়। এমনকী কার্ড করতে গেলে ১০০০ টাকা করে নেওয়াও হয়েছে। এখন আচমকা কার্ড পরপর বাতিল করা হচ্ছে।''
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আপাতত ৯০০ থেকে ১০০০ জনের আধার ডিঅ্যাক্টিভেট হয়েছে। সমস্যা নিয়ে তফশিলি ফেডারেশন তাঁকে চিঠিও লিখেছে। মতুয়া থেকে শুরু করে অনেকক্ষেত্রে রাজ্যকে না জানিয়ে ডিএম-কে না জানিয়ে আধার কার্ড বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার গুণ্ডামি করে, এনআরসি করার পরিকল্পনা করেই আধার কার্ড বাতিল করছে বলে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়েছেন বলেও জানান। পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচন কমিশনে একটি দল পাঠানোর ভাবনাও নিয়েছেন তিনি।
I vehemently condemn the reckless deactivation of Aadhaar cards, particularly targeting SC, ST and OBC communities in West Bengal.
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) February 19, 2024
The Centre's unilateral decision to deactivate Aadhaar cards without any prior investigation or consultation with the State Govt. is a sinister plot… pic.twitter.com/iXttP9Uako
প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ''যেভাবে পরপর আধার কার্ড ডিঅ্যাক্টিভেট করা হচ্ছে তার প্রতিবাদ করছি। এইভাবে কাউকে না জানিয়ে আধার কার্ড বাতিল করার পিছনে ষড়যন্ত্র আছে। লোকসভার আগে যাতে মানুষ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হন, তার প্রচেষ্টা করা হচ্ছে।''