
শেষ আপডেট: 18 December 2023 20:50
সব কিছু ঠিকঠাক চললে আগামী পনেরো দিনের মধ্যে দেউচা পাঁচামিতে ব্যাসল্ট পাথর তোলার প্রাথমিক কাজ শুরু করতে চলেছে নবান্ন। কয়েকদিনের মধ্যে এ ব্যাপারে দরপত্র হাঁকবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। সূত্রের খবর, ব্যাসল্ট পাথর তোলার জন্য এরই মধ্যে কয়েকটি এজেন্সি আগ্রহ দেখিয়েছে।
ব্যাসল্ট পাথর কী?
ব্যাসল্ট হল একটি অতি কঠিন পাথর। তাতে লোহা ও ম্যাগনেশিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে। দেউচা পাঁচামি এলাকায় মাটির নীচে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ মিটার পুরু ব্যসল্ট পাথরের চাদর রয়েছে। তার নীচে রয়েছে কয়লা। অর্থাৎ কয়লার নাগাল পেতে হলে আগে ব্যাসল্টের চাদর সরাতে হবে।
দেউচা পাঁচামিতে কত কয়লা মজুত রয়েছে, তার ধারণা ইতিমধ্যে দিয়েছে জিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। ২০০৮ সালে একবার সংসদে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তৎকালীন কেন্দ্রীয় কয়লা প্রতিমন্ত্রী সন্তোষ বাগরোডিয়া জানিয়েছিলেন, দেউচা পাঁচামি এলাকায় কয়লার চারটি জোন রয়েছে। তাতে ২০২৬ মিলিয়ন টন তথা ২০২.৬ কোটি টন কয়লা মজুত রয়েছে। তবে এর উপরে তিন থেকে পাঁচটি স্তরে রয়েছে ব্যাসল্টের চাদর।
দেউচা পাঁচামি প্রকল্পের জন্য সরকার মোট জমি চিহ্নিত করেছিল ১২.৩১ বর্গ কিলোমিটার এলাকা। সূত্রের খবর, তার মধ্যে ৪২০ একর জমি সরকার ব্যাসল্ট পাথর তোলার প্রস্তুত করে ফেলেছে। এই ৪২০ একরের মধ্যে ২০০ একর সরকারি খাস জমি এবং বাকি ২২০ একর জমি ব্যক্তি মালিকানায় থাকা জমি। তবে ব্যক্তি মালিকানায় থাকা জমির অধিকাংশ সরকার কিনে নিয়েছে। বাকি অংশের জমির মালিকের থেকে বিক্রি করার সম্মতিপত্র পেয়ে গেছে সরকার। প্রথম ধাপে এই ৪২০ একর জমিতে ব্যাসল্ট পাথর তোলার কাজ শুরু করতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নবান্ন সূত্র জানাচ্ছে, ব্যাসল্ট রক বা ব্যাসল্ট পাথরের বাজারে চাহিদা প্রচুর। এই পাথর মূলত রাস্তা তৈরি, বাড়ি তৈরি, ব্রিজ তৈরিতে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ৪২০ একর জমি থেকে প্রায় ১৪২ মিলিয়ন টন অর্থাৎ ১৪.২ কোটি টন ব্যাসল্ট পাথর পাওয়া যেতে পারে। যার মূল্য প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা।
বাংলায় বড় শিল্প গড়ে তোলার জন্য ক্ষুদা রয়েছে। সরকারও চাইছে রাজ্যে বিনিয়োগ হোক। সেদিক থেকে দেউচা পাঁচামি নিয়ে বড় আশায় রয়েছে রাজ্য সরকার। নবান্নের হিসাবে প্রথম পর্যায়ে অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হতে পারে।
কোল ইন্ডিয়ার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পার্থ ভট্টাচার্যের মতে, দেউচা পাঁচামি খনিতে বিনিয়োগ লাভজনক হবে কিনা তা নিয়ে অনেকের সংশয় রয়েছে। আসল ব্যাপার হল, এখানে কী ধরনের প্রযুক্তির প্রয়োজন হবে সে তা পরামর্শদাতা সংস্থার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা। ওখানে প্রচুর পরিমাণে কয়লা মজুত রয়েছে। তাই মনে করা হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ লাভজনকই হবে।