
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 4 July 2024 20:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত সপ্তাহের শেষ তিনদিন অর্থাৎ শুক্র, শনি ও রবি রাজ্যে গণপিটুনিতে পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নবান্নের তরফে কড়া অবস্থান নেওয়ার পরও একাংশ মানুষের মধ্যে হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতির জন্য পরোক্ষে রাজভবনের অবস্থানকে দায়ী করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার বিদ্বজ্জনদের একাংশের সঙ্গে আলিপুরের ‘সৌজন্য’ প্রেক্ষাগৃহে মুখ্যমন্ত্রীর চা-চক্রের আয়োজন করা হয়েছিল। সূত্রের খবর, সেখানেই এ ব্যাপারে রাজভবনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’ এর তরফে আয়োজিত এদিনের চা-চক্রে উপস্থিত ছিলেন কবীর সুমন, নচিকেতা চক্রবর্তী, ইন্দ্রনীল সেন, প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীরা। উদ্যোক্তাদের তরফে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু।
সূত্রের খবর, সেখানে রাজ্যের সাম্প্রতিক গণপিটুনির ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গণপিটুনির প্রবণতা বন্ধ করতে ২০১৯ সালে রাজ্য বিধানসভায় গণপিটুনি বিরোধী আইন পাশ হয়েছিল। রাজ্যপালের সম্মতির জন্য সেই বিল রাজভবনে পাঠানো হয়েছিল । কিন্তু আজও রাজ্যপাল সেই বিলে স্বাক্ষর করেননি।
সম্প্রতি এ ব্যাপারে রাজ্যপালের ভূমিকার সমালোচনা করেছিলেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, ওই সময় পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ছিলেন জগদীপ ধনখড়। পরবর্তী কালে কিছু দিনের জন্য ভারপ্রাপ্ত রাজ্যপালের দ্বায়িত্ব সামলেছিলেন লা গণেশন। তারপর থেকে রাজ্যপাল পদে রয়েছেন বোস। কিন্তু গত পাঁচ বছরে গণপিটুনির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশের বিষয়ে রাজভবনের কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি।
যদিও সম্প্রতি টুইটার হ্যান্ডেলে রাজ্যপাল বোস অভিযোগ করেছিলেন, বিধানসভায় যে বিল পাশ হয়েছে এবং রাজভবনে যে বিল পাঠানো হয়েছে, তা আলাদা।
সূত্রের খবর, এদিন বিদ্বজনদের চা-চক্রে আক্ষেপের সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজভবন সহযোগিতা করলে বিলটি এতদিন আইনে পরিণত হত। সেক্ষেত্রে এত গণপিটুনির ঘটনাও হয়তো ঘটত না।