ঘরের শাড়ি না বদলিয়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) সঙ্গে নিয়ে ছুটলেন দিল্লির বঙ্গভবনে।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 2 February 2026 13:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যত কাণ্ড দিল্লিতে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR West Bengal) ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাত এখন রাজধানীতে। বাংলা থেকে নিয়ে যাওয়া ‘এসআইআরে ক্ষতিগ্রস্ত’ (SIR News) পরিবারের সদস্যদের হেনস্থার অভিযোগ পেয়েই বিরক্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। খবর পেয়ে ঘরের শাড়ি না বদলিয়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) সঙ্গে নিয়ে ছুটলেন দিল্লির বঙ্গভবনে।
কী এমন হল যে অভিষেককে নিয়ে মমতা ছুটে গেলেন?
বাংলা-সহ দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বর্তমানে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ চলছে। প্রথম থেকেই এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছে তৃণমূল। ছ'বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেচ চিঠি লিখেছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। অভিযোগ, এসআইআরের (SIR News) চাপে বাংলায় একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আবার বহু মানুষ কার্যত ‘জীবিত হয়েও মৃত’ হয়ে গিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের নথিতে। যদিও এতগুলো চিঠির কোনও উত্তর পাননি তিনি।
এই সমস্ত অভিযোগকে সামনে রেখেই ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিল্লিতে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে বঙ্গভবনে। কিন্তু সোমবার সকাল থেকেই বঙ্গভবনের সামনে দিল্লি পুলিশের অস্বাভাবিক তৎপরতা নজরে আসে। অভিযোগ, গোটা এলাকা পুলিশে পুলিশে ভরে ফেলা হয়, এমনকি বঙ্গভবনের ভিতরেও ঢুকে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই খবর পেয়েই আর দেরি না করে সেখানে পৌঁছে যান মমতা।
বঙ্গভবনে পৌঁছে প্রথমেই এসআইআরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁদের আশ্বাস দেন। ভিতরে গিয়ে মমতা বলেন, “কোনও চিন্তা করবেন না। আমি তো আছি।” এর পর বঙ্গভবনের বাইরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “দিল্লি পুলিশ বঙ্গভবনে ঢুকে ঘরে ঘরে সার্চ করছে। ওখানে বাংলার মানুষ থাকছেন। এটা তো আমাদের ভবন। ওরা এটা করতে পারে না।”
পাশে তখনও ঠায় দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা জানান, এসআইআরের কারণে যাঁদের পরিবারে মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ, তাঁদের পরিজনদের নিয়েই তিনি দিল্লিতে এসেছেন। পাশাপাশি এমন মানুষও রয়েছেন, যাঁরা জীবিত থাকলেও কমিশনের নথিতে মৃত বলে নথিভুক্ত।
ঘটনার পর দিল্লি পুলিশকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “আমাকে দুর্বল ভাবার কোনও কারণ নেই। ভাবলে ভুল হবে। অনেক দূর দূর থেকে আমরা ওঁদের নিয়ে এসেছি। ওঁদের ভয় দেখানো যাবে না। আমি রাতে যে শাড়ি পরি, সেই পোশাকও ছাড়িনি। যা পরেছিলাম, তা-ই পরে অভিষেককে নিয়ে চলে এসেছি।”
বঙ্গভবনের সামনে দিল্লি পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে কথা বলতেও দেখা যায়। আগেও দিল্লিতে বাঙালিদের হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল স্মরণ করিয়ে দিয়ে মমতা বলেন, “সংযত হোন। বাংলার মানুষকে এ ভাবে হেনস্থা, নির্যাতন করবেন না। অনেকে মারা গিয়েছেন। অনেকে প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। আমাদের গায়ের জোর দেখাবেন না।”
মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে ছিল স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা ও লড়াইয়ের অঙ্গীকার। তিনি বলেন, “যদি ওঁদের জন্য এই দেশে আর কেউ না-ও লড়ে, আমি লড়ব। লড়ে যাব।” এসআইআর ইস্যুতে তৃণমূলের অবস্থান আরও জোরালো করতে মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গভবন থেকেই সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছে দল। সেই বৈঠকে এসআইআরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন দেখার সেই বৈঠক থেকে কী বার্তা দেন মমতা-অভিষেক।