
শেষ আপডেট: 21 November 2023 17:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলনের মঞ্চেই বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। দেশ বিদেশের শিল্পপতিদের সামনেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে বাংলার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর বলে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
২০২০ সালে বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানকে বাংলার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে চলতি বছরের মার্চ মাসে পর্যটন দফতরের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসাবে তিনি দেবের নাম ঘোষণা করেন। তাতে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাহলে কি শাহরুখের পদ গেল? তখন মমতায় স্পষ্ট করেছিলেন, শাহরুখ যেমন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর ছিলেন, তেমনই থাকবেন। তবে যেহেতু তিনি অত্যন্ত ব্যস্ত মানুষ, তাই অন্তত পর্যটন দফতরের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হওয়ার দায়িত্ব ঘাটালের সাংসদের উপর দিয়েছিলেন তিনি।
তবে এবার বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলনের মঞ্চ থেকেই সরাসরি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর বলে ঘোষণা করলেন মমতা। তাঁর হাতে এদিন সঙ্গে সঙ্গেই নিয়োগপত্র তুলে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও মুখ্যমন্ত্রী একথা স্পষ্ট করেননি, শাহরুখের বদলে তিনিই পদে প্রাক্তন ভারত অধিনায়ককে নিয়োগ করলেন, নাকি দুজনেই যুগ্মভাবে বাংলার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর থাকবেন।
গত বেশ কিছুদিন ধরেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌরভের 'ঘনিষ্ঠতা' নজর কাড়ছে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসের স্পেন সফরেও মমতার সঙ্গে গিয়েছিলেন সৌরভ। শুধু তাই নয়, মাদ্রিদ থেকেই শালবনীতে আড়াই হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে ইস্পাত কারখানা তৈরি করার কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। কালে কালে দুজনের সম্পর্ক যে আরও মজবুত হয়েছে তা স্পষ্ট।
মঙ্গলবার সপ্তম বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলনের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর একেবারে পাশেই বসেছিলেন মহারাজ। মমতার অন্য পাশে বসেছিলেন রিলায়েন্স গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি। এদিন মঞ্চে বক্তব্য রাখতে উঠেই ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক জানিয়ে দেন, দিদিকে এসএমএস করলে ১ মিনিটের মধ্যেই জবাব পান তিনি। তিনি জানিয়েছেন, "যখন দেশের বাইরে থাকি, টিভিতে আমাকে দেখলে দিদি ফোন করে খোঁজ খবর নেন। খাবার ঠিকমতো খাচ্ছি না, কিনা জানতে চান।" অর্থাৎ রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্ত্রী হয়েও মমতার যে সবদিকে নজর থাকে, শিল্প সম্মেলনে দেশ বিদেশের শিল্পপতিদের কাছে সৌরভ সেটাই স্পষ্ট করতে চেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলনে শিল্পপতি ও উদ্যোগপতিদের উদ্দেশে সৌরভ বলেন, "বাংলায় মেধার অভাব নেই। নবীন প্রজন্ম উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে জীবনে প্রতিষ্ঠা পেতে চায়। আমি আশা রাখব, আপনারা এখানে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে আস্থা রাখবেন। আমি এটুকু বলতে পারি আপনারা হতাশ হবেন না। হ্যাঁ ছোটখাটো বাধা বা সমস্যা হতে পারে। কিন্তু আমি নিশ্চিত তার দ্রুত সমাধানও হয়ে যাবে।"
শিল্প মঞ্চে সৌরভের এই উপস্থিতি এবং বক্তব্য রাজ্যের শিল্পস্থাপনে যথেষ্ঠ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। এদিন নিজের সংক্ষিপ্ত ভাষণে সৌরভ স্পষ্ট করতে চেয়েছেন, বাংলায় বিনিয়োগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভরসা করা যেতে পারে। তিনি বাংলায় শিল্প চান। তিনি হেল্প ফুল, সহজেই তাঁর কাছে পৌঁছতে পারা যায়।