
শেষ আপডেট: 1 November 2023 18:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পায়ে ব্যথার কারণে পুজোর আগে কিছুদিন বাড়ি থেকে কাজ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুজোর পর মঙ্গলবার নবান্নে এসেছেন তিনি। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানালেন পায়ে আসলে কী সমস্যা হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমার পায়ে সংক্রমণটা সেপটিক টাইপের হয়ে গিয়েছিল ভুল চিকিৎসার জন্য। হাতে স্যালাইনের চ্যানেলের মতো করে চ্যানেল লাগানো হয়েছিল। সাতদিন চ্যানেল করা ছিল। আইভি চলছিল। বিছানা থেকে উঠতেই পারিনি।”
পঞ্চায়েত ভোটের সময়ে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে প্রথমবার বাঁ পায়ে ও কোমরে চোট পেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর এসএসকেএম হাসপাতালে তাঁর বাঁ হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল। পরে স্পেন সফরে গিয়ে তাঁর পায়ের ব্যথা ফের বাড়ে।
তাঁর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হাঁটুতে ফ্লুইড জমেছিল। প্রায় ৪৬ মিলিলিটার ফ্লুইড বের করতে হয়। সেই স্থানেই সংক্রমণ হয়েছিল। ফলে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিনে ২২ থেকে ২৭ হাজার স্টেপ হাঁটেন, তাঁর চলাফেরা পুরো নিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়। প্রথমে কিছুদিন হাঁটাচলা পুরো বন্ধ রাখতে হয়। পরে একটু একটু করে পরিবারের কোনও সদস্যের কাঁধে হাত দিয়ে ধীরে চলাফেরা শুরু করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর পায়ের ব্যথার এখন অনেকটাই নিরাময় হয়েছে।
তিনি যে কিছুদিন নবান্নে আসতে পারেননি তা নিয়ে একাংশ সংবাদমাধ্যম ও বিরোধীরা সমালোচনা করেছিলেন। এদিন বেশ ক্ষোভের সঙ্গেই সেসবের জবাব দিতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি নাকি ৫৫ দিন পর নবান্ন এসেছি। ভারতবর্ষের কটা মুখ্যমন্ত্রী অফিসে যান? বাড়িতেই তো অফিস বানিয়ে নিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী যেখানে থাকেন সেটাই মুখ্যমন্ত্রীর অফিস।” মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এর মধ্যে ১৩ দিন স্পেনে গেছি সেটাও ধরেছেন, ১৩ দিন পুজোর ছুটি গেছে সেটাও ধরেছেন, ৬ দিন ৬ ঘণ্টা করে যে ১২০০ পুজোর উদ্বোধন করলাম সেটাও ধরেছেন, আমি যে মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছি সেটাও ধরেছেন!”
অসন্তোষের সঙ্গে তিনি এও বলেন, “কে কদিন অফিস যায়? আমি কি টাকা নিই নাকি! স্বেচ্ছায় সেবা করি। কটা দিন নবান্নে না এসে যদি ছোট ঘর থেকে অফিস করি, অসুবিধা কোথায়?”
তাঁর কথায়, “মনে রাখবেন মাঝের কয়েকটা দিন অফিস না আসতে পারলেও আমার টেবিলে কিন্ত কোনও ফাইল পেন্ডিং ছিল না। বাড়ি থেকে প্রতিদিন সবটা আপ টু ডেট করে দিয়েছি।”