
শেষ আপডেট: 17 December 2023 15:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংসদে স্মোক বম্ব ছোড়ার ঘটনা নিয়ে উত্তাল গোটা দেশ। সংসদে এই নিয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখান বিরোধীরা। সংসদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শুরু হয়েছে তদন্তও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকও করেন। মোদী বলেন, বিষয়টি যথেষ্ট গুরুতর। এই ঘটনা নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লি যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন যে, নতুন সংসদে নিরাপত্তা-গলদ নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন।
বাংলার বকেয়া টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র, এই নিয়ে দীর্ঘদিন মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার তৃণমূল। কেন্দ্রের সঙ্গে চলছে চিঠি চাপাটিও। এবার সেই বকেয়া টাকা নিয়ে আলোচনা করতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে দিল্লি যাচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ২০ ডিসেম্বর মমতার সঙ্গে দেখা করার সময় দিয়েছেন মোদী। তার আগে দিল্লিতে একাধিক কর্মসূচি রয়েছে মমতার। ১৯ তারিখ ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। তাঁর সঙ্গে থাকবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েই দিল্লি যাত্রার কথা ঘোষণা করেছিলেন মমতা। রবিবারই দিল্লির উদ্দেশে পাড়ি দিলেন তিনি। তার আগে মমতার গলায় ফের শোনা গেল কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথা। সেই সঙ্গে সংসদে স্মোক বম্ব কাণ্ড নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। তাঁর কথায়, 'সংসদের নিরাপত্তা লঙ্ঘিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকও নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়টি মেনে নিয়েছে। নতুন সংসদে নিরাপত্তার বড় গলদ আছে। তা নিয়ে তদন্ত করা হোক। জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে আপসের প্রশ্ন নেই। এর সঙ্গে বাংলার কোনও যোগ নেই। বাংলার নামে অপপ্রচার করা হচ্ছে। আমরা অপরাধীদের আশ্রয় দিই না। আমিও চাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।'
বকেয়া টাকা ও কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগে এদিন ফের সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, 'বাংলা থেকে জিএসটি-র টাকা নিয়ে চলে যাচ্ছে। আমাদের টাকা দিচ্ছে না। ১০০ দিনের কাজ থেকে শুরু করে বাংলার বাড়ি সহ একাধিক প্রকল্পের টাকা আটকে রাখা হয়েছে।
মমতা আরও বলেন, 'স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রং গেরুয়া না করলে কেন্দ্র টাকা দেবে না বলছে। নীল-সাদা তো কোনও দলের রং নয়। এটা রাজ্যের রং। সেখানে কেন গেরুয়া করতে হবে। ওরা মানুষের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে। মানুষ কী খাবে, কী পড়বে সব ঠিক করে দিচ্ছে কেন্দ্র। সিলেবাসে যা ইচ্ছে তাই ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।'
উল্লেখ্য, গত ১৩ ডিসেম্বর সংসদে ঢুকে পড়েন দু'জন। সাংসদের ভিজিটরস পাস নিয়ে ঢোকে ওই দুই যুবক। ভিজিটরস গ্যালারি থেকে লাফ দিয়ে সোজা লোকসভা কক্ষে পৌঁছে যায়। এরপর জুতোর মধ্যে লুকিয়ে রাখা ক্যানিস্টার থেকে হলুদ গ্যাস ছড়িয়ে দেয়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।