
শেষ আপডেট: 29 May 2023 07:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৈঠক রাজস্থান কংগ্রেসের (Rajasthan Congress) অর্ন্তকলহ নিয়ে। তবে সোমবার দিল্লিতে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট (Ashok Gehlot) এবং প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলটের (Sachin Pilot) সঙ্গে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বৈঠকের (Mallikarjun Kharge's meeting) পরিণতির দিকে চেয়ে আছে গোটা দল। আসছে নভেম্বরে ছত্তীসগড় এবং মধ্যপ্রদেশের সঙ্গে রাজস্থানেও বিধানসভার ভোট। কংগ্রেস আশাবাদী ২০১৮-র মতো এবারও ওই তিন রাজ্য তারা দখল নিতে পারবে। কিন্তু চিন্তা যত রাজস্থানকে নিয়ে। সেখানে গেহলট ও পাইলটের বিবাদের ছায়া পড়তে শুরু করেছে পড়শি ছত্তীসগড় এবং মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসেও।
সদ্য ক্ষমতা দখল করা কর্নাটক কংগ্রেসে মুখ্যমন্ত্রী বাছাই-ই শুধু নয়, ভোটের আগে সিদ্দারামাইয়া এবং ডিকে শিবকুমার শিবিরের বিরোধকে কেন্দ্র করে একটা সময় ক্ষমতায় টিকে যাওয়ার ব্যাপারে তুমুল আশাবাদী হয়ে উঠেছিল শাসক দল বিজেপি। রাজস্থানেও কংগ্রেস (Rajasthan Congress) সরকারের কাজকর্ম নিয়ে মানুষ মোটের উপর সন্তুষ্ট। নেই বড় ধরনের কোনও অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ। এখনও জনরোষ বা পালাবদলের জোরালো হাওয়া নেই। বরং তুমুল সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং দলীয় কোন্দলের শিকার বিরোধী পদ্ম শিবিরও। তারপরও তারা ক্ষমতায় ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী গেহলট-পাইলটের বিরোধের কারণে।
কর্নাটকে শেষ পর্যন্ত খাড়্গে এক ঘাটের জল খাওয়াতে রাজি করান সিদ্দারামাইয়া এবং শিবকুমারকে। বস্তুত প্রচারে কংগ্রেসের ঐক্যের চেহারাও দলের বিজয়ে কাজে আসে। কিন্তু খাড়্গে নিজে দক্ষিণের ওই রাজ্যের নেতা। ফলে তাঁর পরামর্শ মানার ক্ষেত্রে সিদ্দা ও শিবকুমারকে রাজ্যে খাড়্গের সম্মানের কথা মাথায় রাখতে হয়েছিল। রাজস্থানে তা সম্ভব হবে কিনা, এখনও স্পষ্ট নয়।
শচীন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মে মাসের মধ্যে তাঁর দুই দাবি না মানা হলে তিনি ফের রাজ্যব্যাপী আন্দোলনে নামবেন। মুখে না বললেও বোঝাতে চেয়েছেন সেই আন্দোলনের নিশানা করবেন গেহলট সরকারকে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার দুই নেতার সঙ্গে প্রথমে আলাদা কথা বলবেন খাড়্গে। বৈঠকে থাকতে পারেন রাহুল গান্ধীও। বরফ গললে দুই নেতাকে মুখোমুখি বসিয়েও কথা হতে পারে।
শচীনের এক নম্বর দাবি, আগের বিজেপি নেত্রী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সরকারের বিরুদ্ধে ২৫ হাজার কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ রয়েছে। গেহলট সরকার এখনও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। গেহলট সরকারকে অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দিতে হবে। দুই. বিধানসভা ভোটে তাঁকে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তুলে ধরতে হবে।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে শচীনের অভিযোগ কতটা সত্য সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার থেকেও চর্চা বেশি হচ্ছে কেন কেন বিজেপি নেত্রী বসুন্ধরাকে ভোটের মুখে নিশানা করেছেন শচীন। গেহলটের অভিযোগ, শচীন কংগ্রেসের বিধায়ক ভাঙিয়ে বিজেপির সমর্থনে সরকার গড়তে চেয়েছিলেন। তাতে আপত্তি তোলেন বসুন্ধরা। অর্থাৎ বিজেপি নেত্রীর বিরুদ্ধে শচীনের তোলা অভিযোগকে কোনও আমলই দিতে নারাজ গেহলট। একইভাবে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মুখ হিসাবে শচীনকে মেনে নিতে নারাজ।
কংগ্রেসের সমস্যা অন্যত্র। শচীন একের পর এক অস্বস্তিকর দাবি করে পরিস্থিতি এমন ঘোরালো করে তুলেছেন যে তাঁর মুখ রক্ষার চেষ্টা না হলে তিনি দল ছেড়ে নতুন পার্টি গড়তে পারেন। গুজ্জরদের মধ্যে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব আছে। শচীন সেই পথে এগলে বিজেপির ক্ষমতা দখল আটকানো কঠিন হয়ে পড়বে। শুধু তাই নয়, শচীন কংগ্রেসে থেকে গেলেও বিজেপির সমর্থনে ভোটের পর সরকার গড়ার চেষ্টা করতে পারেন। ফলে শচীনের মুখরক্ষা এখন কংগ্রেস হাইকমান্ডের দায় হয়ে পড়েছে।
আপাতত সবচেয়ে জোরালো সমাধান সূত্র শোনা যাচ্ছে, কর্নাটকে ডিকে শিবকুমারের মতো শচীনকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করে টিকিট বণ্টন এবং প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী মুখ নিয়ে কর্নাটকের মতো দলই ভোটের পর বিধায়ক দলের সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেবে বিষয়টি। এখন দেখার গেহলট-পাইলটের বিবাদের বরফ গলে কিনা। রাজস্থানের বিরোধ মিটে গেলে মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তীসগড় নিয়েও কংগ্রেস নিশ্চিন্ত হতে পারে।
মোদীর ‘দিল্লি অর্ডিন্যান্স’, কেজরিওয়ালকে সমর্থনে আপত্তি রাহুল-প্রিয়াঙ্কার, বিপাকে খাড়্গে