
প্রয়াত তৃণমূল নেতা দুলাল সরকার।
শেষ আপডেট: 3 January 2025 13:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নভেম্বরে কলকাতার উপকণ্ঠে কসবায় নিজের বাড়ির সামেনই দুষ্কৃতী হামলার শিকার হয়েছিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। আততায়ীর রিভলবার লক হয়ে যাওয়ায় বরাতজোরে বেঁচে যান সুশান্ত।
বৃহস্পতিবার মালদহে তৃণমূল নেতা দুলাল সরকার ওরফে বাবলাকে খুনের ঘটনায় সেই কসবার ছায়া দেখছেন তদন্তকারীরা। সুশান্তকে খুনের ঘটনায় বিহারের যোগ মিলেছিল। মালদহে কাণ্ডেও তাই। এমনকী কসবার মতো মালদহ কাণ্ডেও খুনের ১০ দিন আগে থেকে দুষ্কৃতীরা বাবলা সরকারকে রেইকি করছিল বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।
ঘটনার তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবারই দু'জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ধৃত মহম্মদ সামি আখতার এবং টিঙ্কু ঘোষের মধ্যে আখতারের বাড়ি বিহারে। ধৃতদের জেরা করে শুক্রবার আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছেন তদন্তকারীরা। তাদের মধ্যে আব্দুল গনি নামে বিহারের আরও এক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপরই বিহার যোগের বিষয়ে নিশ্চিত পুলিশ। পুলিশ সূত্রের খবর, খুনের জন্য গত ১০ দিন ধরে রেইকি করেছিল দুষ্কৃতীরা।
পুলিশ সূত্রের খবর, বড়দিনের দিনই বাবলা সরকারের ওপর হামলার ছক কষেছিল দুষ্কৃতীরা। কিন্তু সেদিন তৃণমূল নেতার সঙ্গে প্রচুর লোকজন থাকায় প্ল্যান বদলাতে বাধ্য হয়েছিল তারা।
এ ব্যাপারে বড় দাবি করেছেন ইংরেজবাজার পুরসভার পুরপ্রধান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। তিনি বলেন, "১০ লক্ষ টাকার সুপারি দিয়ে বিহার থেকে দুষ্কৃতী এনে দুলালকে খুন করা হয়েছে। নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন পুলিশের কর্তারা।"
বৃহস্পতিবার সকালে ইংরেজবাজারে বাড়ি থেকে বেরিয়ে দলীয় কার্যালয়ে গিয়েছিলেন দুলালবাবু। কাজকর্ম সেরে পার্টি অফিস থেকে বেরিয়ে নিজের ফ্যাক্টরির দিকে রওনা হন। সেখানেই মোটরবাইকে আসা তিন দুষ্কৃতী তাঁকে তাড়া করে। দুলালবাবুকে লক্ষ্য করে পরপর ৪ রাউন্ড গুলি ছোড়ে তারা। তিনটি গুলি লাগে দুলালবাবুর। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। গুলি শব্দ ও আর্তনাদ শুনে দলের কর্মীরা ছুটে আসে। তাঁরাই তাঁকে মালদহ মেডিক্য়াল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।
এঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে বৃহস্পতিবার নবান্নের বৈঠক থেকে মালদহের এসপিকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভরা বৈঠকে এসপিকে 'অপদার্থ' বলেও তিরষ্কার করেন তিনি।