
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 27 November 2024 18:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যজুড়ে ট্যাব কেলেঙ্কারিতে ইতিমধ্যে একাধিক গ্রেফতারি হয়েছে। নাম উঠে এসেছে অনেক শিক্ষকদেরও। ট্যাবের টাকা চুরির অভিযোগে এবার এক শিক্ষকের চাকরি গেল। পূর্ব বর্ধমানের একটি স্কুলে চাকরি করতেন মালদহের বাসিন্দা এই শিক্ষক। যদিও তিনি চুক্তিভিত্তিক চাকরি করতেন আর আগেই তাঁকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
এই শিক্ষকের নাম রকি শেখ এবং তিনি পূর্ব বর্ধমানের বৈষ্ণবনগর থানা এলাকার ভগবানপুর কেবিএস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণিতে কম্পিউটার শেখাতেন। ট্যাব কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়ার পরই তাঁর চাকরির ওপর যে প্রকোপ পড়বে সে অনুমান করাই গেছিল। হলও তেমনটাই। তাঁর বরখাস্ত করেছে রাজ্য শিক্ষা দফতর। রকির মতো আরও একাধিক শিক্ষক যাদের নাম ট্যাব কাণ্ডে উঠে এসেছে তাঁদের বিরুদ্ধেও একই রকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আভাস মিলেছে।
ট্যাব কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরপরই যা গ্রেফতারি হয়েছে তার বেশিরভাগ মালদহ এবং উত্তর দিনাজপুরে। দুই জেলা থেকে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। ধৃতদের মধ্যে একজন মহিলা। তাঁদের বিরুদ্ধে বাংলার শিক্ষা পোর্টাল হ্যাক করে ট্যাবের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জেনেছে, পোর্টাল হ্যাক করে পড়ুয়াদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর বদলানো হয়েছিল। মালদহ থেকে যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর কাছ থেকে প্রায় ১০০টি সিম কার্ড, ৬৫ এটিএম কার্ড, দুটি মোবাইল, ল্যাপটপ মিলেছে।
তিনদিন আগেই শিলিগুড়ির নিউ জলপাইগুড়ি থানা ও মাটিগাড়া থানা এলাকা থেকে এক দম্পতি-সহ মোট চারজনকে ট্যাব কাণ্ডে গ্রেফতার করেছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়ারি থানার পুলিশ। তদন্তে এও উঠে এসেছে, বিভিন্ন জেলায় ট্যাব থেকে চুরি করা টাকা রাখার জন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়া করা হত। এর জন্য কমিশন পেতেন এজেন্টরা। পুলিশ জেনেছে, বিভিন্ন জেলায় একাধিক এজেন্ট রাখত প্রতারকরা। তাদের মূল কাজ ছিল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়া নেওয়া। সেই অ্যাকাউন্টেই টাকা রেখে কমিশন পেত তারা।
রাজ্যজুড়ে যে ট্যাব কেলেঙ্কারি চলেছে তার পিছনে রয়েছে আন্তঃরাজ্য অসাধু চক্র। মূলত রাজস্থান, মহারাষ্ট্র এবং ঝাড়খণ্ডে সক্রিয় চক্র রয়েছে। কিছুদিন আগে সাংবাদিক বৈঠক করে এমনটাই জানিয়েছিলেন এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার। যে পড়ুয়ারা ট্যাব প্রতারণার শিকার হয়েছে তাঁরা তাঁদের টাকা পেয়ে যাবে বলেই আশ্বাস দেন তিনি।