
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 10 January 2025 21:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালদহের তৃণমূল নেতা দুলাল সরকারকে খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যে তৃণমূল নেতা নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে আরও ছ'জনকে। ধৃতদের জেরা করে শুক্রবার খুনে ব্যবহৃত একটি নাইন এমএম পিস্তল, দু’টি ওয়ান শটার পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ। খুনে ব্যবহৃত পোশাকগুলিও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
পুলিশের এক কর্তা বলেন, "এর ফলে খুব তাড়াতাড়ি তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করা যাবে!" যদিও পুলিশি তদন্তে সন্তুষ্ট নন নিহত তৃণমূল নেতার স্ত্রী চৈতালি ঘোষ সরকার। এদিনও তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "একটা বিষয় বুঝতে পারছি যে, এই ঘটনায় আরও অনেকে যুক্ত রয়েছেন। তবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেটা এখনই বলব না।"
পুলিশি তদন্তে তিনি যে সন্তুষ্ট নন, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে চৈতালিদেবী এও বলেন, "মনে রাখবেন আমি এখজন আইনজীবীও। তাই বলছি, স্বামী খুনের শেষ দেখে ছাড়ব।"
প্রসঙ্গত, সম্প্রতিইংরেজবাজারে বাড়ি থেকে বেরিয়ে দলীয় কার্যালয়ে গিয়েছিলেন দুলালবাবু। কাজকর্ম সেরে পার্টি অফিস থেকে বেরিয়ে নিজের ফ্যাক্টরির দিকে রওনা হন। সেখানেই মোটরবাইকে আসা তিন দুষ্কৃতী তাঁকে তাড়া করে।
এরপর দুলালবাবুকে লক্ষ্য করে পরপর ৪ রাউন্ড গুলি ছোড়ে তারা। তিনটি গুলি লাগে দুলালবাবুর। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। গুলি শব্দ ও আর্তনাদ শুনে দলের কর্মীরা ছুটে আসে। তাঁরাই তাঁকে মালদহ মেডিক্য়াল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।
ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, মালদহের জেলা তৃণমূল সহ সভাপতি দুলাল সরকারকে খুনের ১০ দিন আগে থেকে দুষ্কৃতীরা রেইকি করছিল। ঘটনার তদন্তে নেমে দু'জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ধৃত মহম্মদ সামি আখতার এবং টিঙ্কু ঘোষের মধ্যে আখতারের বাড়ি বিহারে। ধৃতদের জেরা করে পরে আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। তাদের মধ্যে আব্দুল গনি নামে বিহারের আরও এক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপরই বিহার যোগের বিষয়ে নিশ্চিত হয় পুলিশ। এবার ধৃতদের জেরা করে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করল পুলিশ।