হিমাচলে তুমুল দুর্যোগ, শ্যুটিং করতে গিয়ে ছ'দিন বিচ্ছিন্ন গ্রামে আটকে রইলেন অভিনেত্রী!
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এর আগে অনেক রোমহর্ষক দৃশ্যের শ্যুটিং করেছেন তিনি। বহু কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করে উদ্ধার পেয়েছেন পর্দায়। কিন্তু কখনও ভাবতে পারেননি, বাস্তব জীবনেও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন, যা হার মানাবে সিনেমার চিত্রনাট্যকেও!
গত দু'সপ
শেষ আপডেট: 22 August 2019 12:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এর আগে অনেক রোমহর্ষক দৃশ্যের শ্যুটিং করেছেন তিনি। বহু কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করে উদ্ধার পেয়েছেন পর্দায়। কিন্তু কখনও ভাবতে পারেননি, বাস্তব জীবনেও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন, যা হার মানাবে সিনেমার চিত্রনাট্যকেও!
গত দু'সপ্তাহ ধরে হিমাচল প্রদেশে মালয়ালম সিনেমা কিট্টেম-এর শ্যুটিংয়ে ব্যস্ত দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মঞ্জু ওয়ারিয়র। এ দিকে গোটা হিমাচলে এখন প্রবল বৃষ্টি চলছে। রাজ্য জুড়ে যেমন বাড়ছে জল, তেমনই বিভিন্ন জায়গায় হড়কা বানেরও খবর মিলছে। সেই সঙ্গে পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসছে ধস। সব মিলিয়ে তুমুল দুর্যোগে আবরুদ্ধ হিমাচল। মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে। বহু পর্যটক আটকে পড়েছেন বিভিন্ন জায়গায়। সেই হিমাচলেরই ছত্রু এলাকায় আটকে পড়েন কেরালার এই অভিনেত্রী। ছ'দিন পরে অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে তাঁকে ও তাঁর দলের সঙ্গীদের।
মঞ্জুর সঙ্গে সিনেমার কলাকুশলী থেকে অভিনেতা-অভিনেত্রী সকলেই ছিলেন। মোট ৩০ জনের একটি দল গিয়েছিল শ্যুটিংয়ে। শ্যুটিং চলাকালীনই প্রবল বর্ষণে ছতরু বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় কার্যত। সব রাস্তা ধসে বন্ধ। মোবাইল টাওয়ারও অকেজো। এই অবস্থায় একটি স্যাটেলাইট ফোন থেকে মঞ্জু ফোন করেন তাঁর ভাইকে। উদ্ধারের ব্যবস্থা করতে বলেন তাঁদের।
মঞ্জুর ভাইয়ের মাধ্যমে দ্রুত খবর পৌঁছয় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী নিজে ফোন করেন হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম ঠাকুরকে। মঞ্জু ও তাঁর দলকে উদ্ধারের বন্দোবস্ত করতে বলা হয়। এ দিকে হিমাচলের পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপতর হচ্ছে। অতিবৃষ্টিতে নাজেহাল জনজীবন। আটকে পড়া পর্যটকদেরও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এখনও পর্যন্ত স্পিতি উপত্যকার চন্দ্রতাল লেকে প্রায় ১৫০ জন পর্যটক আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
শেষমেষ সরকারের তৎপরতায় উদ্ধার করে মানালি পৌঁছে দেওয়া হয় মঞ্জুকে। নিরাপদে লোকালয়ে পৌঁছে নিজের অভিজ্ঞতা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন মঞ্জু। তিনি লেখেন, "শেষমেশ আমার গোটা দল মানালি পৌঁছেছে, আমি শান্তি পেলাম। ছ'দিন ধরে বরফে আর ধসে আটকে ছিলাম আমরা। উদ্ধারকারী দলের প্রত্যাক সদস্যকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ।"
দেখুন মঞ্জুর ফেসবুক পোস্ট।
https://www.facebook.com/theManjuWarrier/posts/1097483503792643