দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে দেশজুড়ে চলেছে লকডাউন। অনির্দিষ্ট কালের জন্য ঘরবন্দি মানুষ। সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা জরুরি এখন, তাই থমকে গেছে সমস্ত উৎসব আয়োজনও। মানুষের পাশে মানুষ থাকতে না পারলে আর কীসের উৎসব! কিন্তু এসবের মাঝেই আসন্ন রথ উৎসব উপলক্ষে রথের নির্মাণ কাজও শুরু হয়ে গেল পুরীর মন্দির চত্বরে! তবে রথযাত্রা হবে মন্দিরের ভিতরেই। রথ নিয়ে বাইরে উৎসব হবে না অন্য বারের মতো।
যে রথে জগন্নাথদেব পথে বের হন তা প্রতি বছরই তৈরি করা শুরু হয় অক্ষয় তৃতীয়া থেকে। বিশাল বিশাল কাের গুঁড়ি এনে ফেলা হয় চত্বরে। পরিশ্রম করে রথ গড়েন শ্রমিক ও শিল্পীরা। কিন্তু এই বছর কয়েক দিন আগেই নিঃশব্দে পেরিয়ে গেছে অক্ষয় তৃতীয়া। কোভিড-১৯ সংক্রমণের জন্য লকডাউন ওড়িশা জুড়ে। তাই রথ তৈরির প্রস্তুতি নেওয়াও সম্ভব হয়নি।
তাহলে কি তৈরিই হবে না রথ? এ নিয়ে ওড়িশা সরকার ও মন্দির কমিটির মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক হয় গত কয়েক দিন ধরে। যদিও রাজ্য সরকার জানিয়ে দেয়, রথযাত্রা নিয়ে শেষ সিদ্ধান্ত নেবে মন্দির কমিটিই। রথ তৈরি হবে কিনা, হলে কীভাবে তা হবে, রথযাত্রাই বা কীভাবে হবে-- এই সবটাই মন্দির কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত।
এর পরেই মন্দির কমিটির তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, এখন মানুষ ও দেশের কথা আগে ভাবতে হবে। মানুষের বেঁচে থাকার কথা আগে ভাবতে হবে। তার পরে পুজো, উৎসব, ঐতিহ্য। তাই শেষমেশ সিদ্ধান্ত হয়, মন্দিরের ভিতরেই হবে এই বছরের রথযাত্রা। ওড়িশার আইনমন্ত্রীও জানিয়ে দেন, লকডাউন ওঠার পরে রথ তৈরি করা গেলেও রাস্তায় তা নামবে না। মন্দির কমিটিও ঘোষণা করে রথযাত্রা বাতিল করার কথা। তবে জানিয়ে দেয়, প্রথা রক্ষা করতে মন্দির চত্বরেই ঘুরবে জগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রার রথ।
জগন্নাথের রথের নাম নন্দীঘোষ, বলরামের রথের নাম তলধ্বজ, সুভদ্রার রথের নাম পদ্মধ্বজা। জগন্নাথের রথে ১৮টি, বলরামের রথে ১৬টি এবং সুভদ্রার রথে ১৪টি চাকা থাকে। প্রতি বছরে নতুন রথ তৈরি হয়। ৪টি করে কাঠের ঘোড়া যোগ করা হয় প্রতিটি রথে। ১২০০ মিটার কাপড়ে বানানো হয় রথযাত্রার চাঁদোয়া। তৈরি করেন ১৫ জন দরজি মিলে। পুরীর রথে বসানো মূর্তি তৈরি হয় নিমগাছের কাঠ দিয়ে।
সেই রথেরই নির্মাণকাজ আজ শুরু হল পুরীর মন্দিরে। আজ, শুক্রবার সকাল থেকেই বড় বড় কাঠের গুঁড়ি এনে ফেলা হয়। চলে আসেন শ্রমিকরাও। কুড়ুলের কোপ পড়ে কাঠের গায়ে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করতে শুরু করেন তাঁরা। কর্তৃপক্ষও অন্যবারের মতোই কাজের তত্ত্বাবধান করেন, তবে দূর থেকে। সকলেরই মুখে মাস্কও পরা ছিল।
পুরীতে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়ে থাকে রথযাত্রা উৎসবে। এবার আর তেমনটা হবে না করোনার কারণে। ইতিমধ্যেই মানস সরোবর যাত্রা বন্ধ করা হয়েছে। অসমের কামাখ্যায় অম্বুবাচীর মহোৎসব হবে না বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
আগামী ২৩ জুন রথ। এপ্রিলের শেষেই ঘোষণা করা হয়েছে রথযাত্রা হবে মন্দিরের ভিতরেই ছোট করে। মানুষকে ভিড় করতে দেওয়া হবে না। রথের এক সপ্তাহ পরে উল্টোরথযাত্রাও হবে না এ বছর।