
শেষ আপডেট: 5 February 2024 17:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’দিন আগে রেড রোডে তৃণমূলের ধর্না মঞ্চ থেকে রাহুল গান্ধীকে তীব্র কটাক্ষ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে এও জানিয়েছিলেন, তিনি কংগ্রেসকে দুটি আসন ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তা প্রত্যাখ্যান করেছে কংগ্রেস। তার পর আর কোনও আলোচনাই হয়নি। শুধু তা নয়, তার আগে মালদহের সভায় তৃণমূল নেত্রী জানিয়েছিলেন, বাংলায় একাই লড়বে তাঁর দল।
ঘটনা হল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ কথা বললেও, দলের বহু রাজ্য নেতা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না যে কংগ্রেসের সঙ্গে শেষমেশ জোট আর হবে না। আবার তাৎপর্যপূর্ণ ভাবেই মমতা বা তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোনও নেতিবাচক মন্তব্য করছে না কংগ্রেস। এমনকি মমতা রাহুলকে তীব্র কটাক্ষ করলেও একই ধরণের শব্দ প্রয়োগ থেকে বিরত সাবেক জাতীয় দল। বরং জয়রামরা যা বলছেন তার মোদ্দা অর্থ হল, আসন সমঝোতার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে।
এখন কৌতূহল হতে পারে, কোথায় আটকে রয়েছে জোট আলোচনা? এটা ঠিক যে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে অধীর চৌধুরীরা বলেছিলেন, তৃণমূলের সঙ্গে যদি জোট করতেই হয়, তবে তা যেন সম্মানজনক শর্তে হয়। অন্তত ৬ থেকে ৮টি আসন ছাড়তে হবে কংগ্রেসকে। কিন্তু কংগ্রেসের নেতারাও জানেন, তৃণমূল কোনও ভাবেই ৬টি বা ৮টি আসন ছাড়তে রাজি হবে না। ঘরোয়া আলোচনায় কংগ্রেসের অনেকেই বলছিলেন, বহরমপুর ও মালদহ দক্ষিণের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রায়গঞ্জ, দার্জিলিং এবং পুরুলিয়া আসন ছাড়তে রাজি হলেও যথেষ্ট। এই পাঁচটি আসনের কোনওটিই জোড়াফুলের জেতা সিট নয়।
সূত্রের খবর, পুরুলিয়া, দার্জিলিং পরের কথা, রায়গঞ্জ আসন নিয়ে টানাপোড়েনেই আটকে গেছে কংগ্রেস-তৃণমূলের জোট আলোচনা। তৃণমূলের বক্তব্য, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে ওই আসনে দ্বিতীয় হয়েছিলেন তাঁদের প্রার্থী কানাইয়ালাল আগরওয়াল। কংগ্রেস হয়েছিল চতুর্থ। মাত্র ৮৩ হাজার ভোট পেয়েছিলেন দীপা দাশমুন্সি।
কিন্তু কংগ্রেসের পাল্টা যুক্তি হল, রায়গঞ্চ হল ট্রাডিশনালি কংগ্রেসের সিট। স্বাধীনতার পর থেকে কংগ্রেস সেখানে ৯ বার জিতেছে। প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি ৯৯ এবং ২০০৪ সালে জিতেছিলেন। তার পর ২০০৯ সালে জিতেছিলেন তাঁর স্ত্রী দীপা। তৃণমূল কখনওই সেখানে জেতেনি। ২০১৯ সালে দীপা ওই আসনে মাত্র ১৬৩৪ ভোটে হেরেছিলেন মহম্মদ সেলিমের কাছে। সেবার রায়গঞ্জে চতুর্থ হয়েছিল তৃণমূল। সুতরাং জোট হলে কংগ্রেসকে ওই আসন ছাড়তেই হবে।
সূত্রের দাবি, এখন রায়গঞ্জ নিয়েই দুই শিবিরের মধ্যে স্নায়ুর লড়াই চলছে। রাজনীতিতে দুই দলের নেতা নেত্রীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও লড়াই থাকলেও ব্যক্তিগত স্তরে অনেক সময়েই বন্ধু সম্পর্ক থাকে। তা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীপা দাশমুন্সির কোনওকালেই তেমন সম্পর্ক ছিল না। তার উপর আবার ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন দীপা।
প্রয়াত প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির স্ত্রী দীপা এখন কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য। তিনি তেলঙ্গনা রাজ্যের পর্যবেক্ষক। সাংসদ না থাকলেও জাতীয় রাজনীতিতে এখন দীপার রাজনৈতিক মর্যাদা বেড়েছে। জানা গিয়েছে, সনিয়া-রাহুলও চান রায়গঞ্জে প্রার্থী হোন দীপা দাশমুন্সি।
সেই কারণে কংগ্রেস সহজে দরকষাকষি ছেড়ে দিতে চাইছে না। এখন দেখার কে আগে চোখের পলক ফেলে! তৃণমূল না কংগ্রেস!