
বাবলু যাদব এবং নিহত সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 26 February 2025 13:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পানাগড়ে গাড়ি দুর্ঘটনায় (Panagarh Accident Case) তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবার পর্যন্ত কোনও গ্রেফতারি হয়নি। তবে বুধবার গ্রেফতার করা হয়েছে ধাওয়া করা সেই সাদা গাড়ির চালক বাবলু যাদবকে (Bablu Yadav)। তিনি ওই গাড়ির মালিকও বলে জানা গেছে। এখন তাঁকে জেরা করে কী তথ্য উঠে আসে, সেটাই দেখার বিষয়।
পানাগড়ের কাঁকসায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয় নৃত্যশিল্পী সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়ের (Sutandra Chatterjee)। অভিযোগ, দুর্গাপুরের বুদবুদের একটি পেট্রোল পাম্পে তেল ভরার পর তাদের গাড়িকে ধাওয়া করে একটি সাদা গাড়ি। যে গাড়িতে কয়েকজন মদ্যপ ছিলেন। সুতন্দ্রাকে নিয়ে কটূক্তি করতে থাকে তারা। এরপরই ধাওয়া করলে দুর্ঘটনায় পড়ে সুতন্দ্রার গাড়ি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। পুলিশ জানতে পেরেছে, ধাওয়া করা সেই গাড়ির স্টিয়ারিং ছিল বাবলুর হাতেই। তবে তাঁকে গ্রেফতার করতে এত সময় কেন লেগে গেল পুলিশের, সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বাবলু পানাগড়েরই বাসিন্দা এবং তার গাড়ির ব্যবসা রয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি জানতে পেরেই বাবলুর বাড়িতে হানা দিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু সেখানে তাঁকে বা তাঁর পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। শেষমেশ মঙ্গলবার রাতে বর্ধমান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
পানাগড়ের ঘটনা নিয়ে পুলিশ সাংবাদিক করে দাবি করেছিল, এটি রেষারেষির ঘটনা, কোনও কটূক্তি করা হয়নি। সুতন্দ্রার পরিবার সাফ জানাচ্ছে, এটি নিছক রেষারেষির জেরে দুর্ঘটনার ঘটনা নয়। ধাওয়া করা গাড়ি থেকে মদের গ্লাস পাওয়া গেছে। আর সুতন্দ্রার গাড়ির চালকও ইভটিজিং-এর কথা বলেছেন। তিনি রেষারেষি করার লোক নন বলেও জানিয়েছেন সুতন্দ্রার মা। তাই স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তাড়াহুড়ো করে কেন এই ঘটনাকে রেষারেষি বলে দেওয়া হচ্ছে, সেটাও জানতে চায় সুতন্দ্রার পরিবার।
অনেকটা সময় ব্যয় হয়ে যাওয়ার পর ধরা হয়েছে বাবলুকে। মদ্যপানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে গেলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তার নমুনা সংগ্রহ করতে হত। এখন সে সময় পেরিয়ে গেছে। তাই এখন বাবলুকে গ্রেফতার করা হলেও আদতে এই ঘটনায় বিচার মিলবে কিনা, তা নিয়ে ধন্দে মৃতার পরিবার।