
শেষ আপডেট: 7 November 2023 09:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রশ্ন ঘুষ কাণ্ডের অভিযোগে বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর কার্যকলাপ নিয়ে খসড়া রিপোর্ট পেশ হবে লোকসভার এথিক্স কমিটিতে। সেই খসড়া ও তার সম্ভাব্য বয়ান নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র দেখছেন মহুয়া।
ওই খসড়া রিপোর্ট মঙ্গলবার পেশ করার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ বৈঠক দু'দিন পিছিয়ে দেওয়ার মধ্যেই রহস্যের গন্ধ পাচ্ছেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর সন্দেহ, কমিটিতে কংগ্রেসের সদস্য তথা সাংসদ উত্তম রেড্ডি ৯ নভেম্বর তেলঙ্গনা বিধানসভা ভোটে তাঁর মনোনয়ন পেশ করবেন। উত্তম যাতে ৯ তারিখের বৈঠকে থাকতে না পারেন সেই কারণেই বেছে বেছে ওই দিন মিটিং রেখেছে এথিক্স কমিটি।
মঙ্গলবার সকালে এবারে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন মহুয়া। এথিক্স কমিটিতে ১১ জন সদস্যের মধ্যে বিজেপির সাংসদই বেশি। মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সভাপতি বিষ্ণু দত্ত শর্মাও কমিটির সদস্য। কিন্তু মুশকিল হল মধ্যপ্রদেশেও বিধানসভা ভোট চলছে। মহুয়া এদিন লিখেছেন, ৯ তারিখ এথিক্স কমিটির বৈঠকের জন্য চার্টার্ড বিমানে করে বিষ্ণু দত্ত শর্মাকে দিল্লিতে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
No draft report circulated as is norm but will be “adopted “ on Nov 9. Mtng postponed to clash with INC MP’s nomination date so he can’t come. BJP calling allies to ensure attendance to adopt via majority. Chartered flight to fly in MP state prez.
— Mahua Moitra (@MahuaMoitra) November 7, 2023
How scared Adani & Modi are!
লোকসভার এথিক্স কমিটিতে ১৫ জন সদস্য রয়েছেন। ৯ তারিখ মহুয়াকে নিয়ে কমিটির চেয়ারম্যান বিনোদ সোনকর যে খসড়া রিপোর্ট পেশ করবেন তা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কমিটিতে গৃহীত হবে। মহুয়া আশঙ্কা করছেন, বিজেপি সংখ্যার তাকতেই ওই রিপোর্ট পাশ করিয়ে নিতে পারে।
কৌসাম্বির বিজেপি সাংসদ বিনোদ সোনকার এবং মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সাংসদ বিষ্ণু দত্ত শর্মার পাশাপাশি কমিটিতে বাকি বিজেপি সদস্য হলেন সুমেধানন্দ সরস্বতী, অপরাজিতা সারেঙ্গি, রাজদীপ রায়, সুনিতা দুগ্গাল এবং সুভাষ ভামরে। ,কংগ্রেসের সদস্যরা হলেন উত্তর কুমার রেড্ডি, প্রীনীত কউর ও বৈথিলিঙ্গম। এছাড়া জগন্মোহন রেড্ডির দলের সাংসদ বালাশৌরি ভাল্লাভাবেনী, শিবসেনার হেমন্ত গডসে, সংযুক্ত জনতার গিরিধারি যাদব, সিপিএমের পি আর নটরাজন এবং বসপার দানিশ আলি ওই কমিটির সদস্য।
মহুয়া এদিন অভিযোগ করেছেন, খসড়া রিপোর্ট কমিটির সব সদস্যের কাছে পাঠানো হয়নি। সাধারণ নিয়ম হল বৈঠকের আগে খসড়া রিপোর্ট পাঠিয়ে দেওয়া। তাঁর কথায়, আসলে মোদী-আদানি ভয় পেয়েছেন, ভয়!
তবে কমিটি সূত্রের খবর, রিপোর্ট আগেভাগে ফাঁস হয়ে যেতে পারে আশঙ্কা করেই খসড়া রিপোর্ট পাঠানো হয়নি। গত সপ্তাহে কমিটির বৈঠকে কংগ্রেস ও সংযুক্ত জনতা দলের সাংসদের যে আচরণ দেখা গিয়েছে, তাতে এই আশঙ্কা অমূলক নয়। সূত্রের এও খবর, এথিক্স কমিটির খসড়া সুপারিশে যাতে কোনও ফাঁকফোকর না থাকে তাই সংবিধান বিশেষজ্ঞদেরও মতামত নিয়েছেন চেয়ারম্যান। সেই কারণেই বৈঠক দু'দিন পিছনো হয়েছে।