
শেষ আপডেট: 23 August 2022 07:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিলকিস বানোর গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের (Bilkis Bano Case) ঘটনায় অভিযুক্ত ১১ জনকে মুক্তির সিদ্ধান্তকে পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) গেলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mohua Moitra)। আবেদন করে বলা হয়েছে, গুজরাত সরকার ১১ জন ধর্ষককে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বাতিল করা হোক। বুধবার জরুরি ভিত্তিতে শুনানির জন্য এই মামলাটি তালিকাভুক্তর আর্জি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার মহুয়া মৈত্রর হয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেন আইনজীবী অপর্ণা ভট্ট। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এনভি রামানার ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, এই মামলাটি তালিকাভুক্ত করা হবে কিনা তা বিবেচনা করে দেখা হবে।
মহুয়া মৈত্রর দায়ের করা মামলায় আবেদন করা হয়েছে যে, গুজরাত সরকার ধর্ষকদের মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বাতিল করা হোক। পাশাপাশি অপরাধীদের মুক্তি দেওয়ার যে ক্ষমতা রাজ্যের হাতে রয়েছে তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কিনা তাও দেখা উচিত।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতা দিবসে বিলকিস বানো (Bilkis Bano Case) গণধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত ১১ জনকে মুক্তি দেয় গুজরাত সরকার। গোধরার উপসংশোধনাগারে গত ১৫ বছর ধরে বন্দি ছিল সকলে। ২০০৮ সালে তাদের সকলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গুজরাত সরকারের শাস্তি মকুবের নিয়ম অনুযায়ী, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার আবেদন করে দোষীরা। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই পনেরো বছর কারাবাসের পর সকলের শাস্তি মকুব করা হয়।
গুজরাত সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে গোটা দেশে শোরগোল পড়ে গেছে। অনেকেই এই সিদ্ধান্তে খুশি নন। ইতিমধ্যেই পিইউসিএলের উদ্যোগে দেশের প্রায় ছয় হাজার বিশিষ্ট নাগরিক সাজা মকুবের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে চিঠি লিখেছেন। তাঁদের বক্তব্য, গুজরাত সরকারের এই সিদ্ধান্ত ন্যায় বিচারের গর্ভপাত।
প্রসঙ্গত, ২০০২ সালের গোধরায় সবরমতী এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ডের পরে গুজরাতজুড়ে ভয়ঙ্কর দাঙ্গা শুরু হয়। সাম্প্রদায়িক হিংসা চরমে ওঠে। সেই সময়েই ২১ বছর বয়সি তরুণী বিলকিস বানো গণধর্ষণের শিকার হন। পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বিলকিস। দাঙ্গার মধ্যে পরিবারের সকলের সঙ্গে পালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় ২০ থেকে ৩০ জনের দল তাঁদের ওপর চড়াও হয়। বিলকিসের পরিবারের সাত জনকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ধর্ষণ করা হয় বিলকিসকে। কোনওরকমে প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে যান বিলকিসের পরিবারের ছ’জন।
সেলিম-তন্ময়রা আদালতে বললেন যে খুশি তদন্ত করুক, সময় চাইল বিজেপি