
শেষ আপডেট: 10 November 2023 18:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহুয়া মৈত্র মানেই কি বিতর্ক। প্রশ্ন ঘুষ কাণ্ডের অভিযোগে কৃষ্ণনগরের বর্তমান তৃণমূল সাংসদের লোকসভার সদস্য পদ খারিজের সুপারিশ করেছে এথিক্স কমিটি। তার পর থেকে মহুয়াকে নিয়ে পুরনো সব বিতর্কের প্রসঙ্গও যেন ফের প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
রবিবার কালীপুজো। এই কালী ঠাকুরকে নিয়ে মহুয়া মৈত্রর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে একবার বেশ জলঘোলা হয়েছিল। ভারতীয় পরিচালক লীনা মানিমেকালাইয়ের তথ্যচিত্রের একটি পোস্টারে দেবী কালী রূপে এক মহিলাকে সিগারেট ফুঁকতে দেখে গোটা দেশ যখন বিতর্কে ফুঁসছে তখন মহুয়া বলেন,আমি এতে খারাপ কিছু দেখি না। মা কালীর তো মদ মাংস খান। তা দিয়েই পুজো হয় মায়ের।
মহুয়া এও বলেন, কে কীভাবে দেবতার প্রতি ভক্তি দেখাবে সেটা তাঁর ব্যাপার। অনেকের মতে, মহুয়া আপাত দর্শনে বিতর্কিত কিছু বলেননি। কিন্তু দেশজুড়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের একাংশ রে রে করে ওঠেন। মহুয়াকে গ্রেফতারের দাবিতে পথে নামে বিজেপি। কিন্তু তাঁর কথাতেই অটল থাকেন। মহুয়া বলেন, “আমি কালীর উপাসক। ভয় পাই না। আর যা সত্যি তাকে ঠেকনা দেওয়ার অন্য শক্তির প্রয়োজন হয় না।” মহুয়ার এ সব মন্তব্য থেকে দূরত্ব রেখেছিল তৃণমূল।
২০২০ সাল। মহুয়ার অন্য একটি বক্তব্য তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। তিনি তখন শুধু কৃষ্ণনগরের সাংসদ নয়, নদিয়া জেলার সভানেত্রীও। নদিয়ার গয়েশপুরে দলীয় কর্মীদের বৈঠকে উপস্থিত সংবাদমাধ্যম সম্পর্কে সাংসদ মহুয়া মৈত্রের মন্তব্যে বিতর্কের ঝড় উঠেছিল। কর্মিসভার বৈঠকে সংবাদমাধ্যমের কয়েকজন প্রতিনিধি ঢুকে পড়ায় মহুয়া আঙুল তুলে বলেছিলেন, “কে এই দু’পয়সার প্রেসকে ভেতরে ডাকে।” মহুয়ার দু’পয়সার সাংবাদিক মন্তব্য ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। কলকাতার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম তীব্র ধিক্কার জানিয়ে প্রতিবাদ করেছিল।
তার আগে আবার একটি নিউজ চ্যানেলে অর্ণব গোস্বামীর শো-য়ে অশালীন আচরণ করার অভিযোগও উঠেছিল মহুয়ার বিরুদ্ধে। সেই বিতর্কে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রে মোদী সরকারের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। বাবুলের সঙ্গে তর্কাতর্কির সময়ে মেজাজ হারিয়ে নিজের ‘মিডল ফিঙ্গার’ দেখিয়েছিলেন মহুয়া।
বিতর্কের শেষ এখানেই নয়। সংসদ কক্ষে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছিল মহুয়ার বিরুদ্ধে। বাজেট অধিবেশন চলাকালীন বক্তব্য পেশ করেন মহুয়া মৈত্র। তিনি বক্তব্য শেষ করার পর বক্তব্য রাখছিলেন টিডিপি নেতা কে রামমোহন নাইডু। সেই সময়ই উঠে দাঁড়িয়ে মহুয়া এমন একটি মন্তব্য করেন যা নিয়ে সংসদ কক্ষে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়। বিজেপি সাংসদেরা সংসদ কক্ষেই প্রতিবাদ করতে শুরু করেন।
মহুয়ার কৃষ্ণনগরের সাংসদ। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে বহুবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অভিযোগ করেছিলেন নদিয়ার জেলাস্তরের প্রবীণ নেতা-কর্মীরা। অভিযোগ ছিল, কর্তৃত্ব করতে প্রবীণ নেতাদের অসম্মান করছেন মহুয়া। তৃণমূলের অনেকেই মনে করেন, মহুয়ার আচরণ বেশ দাম্ভিক ও উগ্র। দলের বহু নেতার সঙ্গে এ কারণেই তাঁর বনিবনা নেই।
পর্যবেক্ষকদের মতে, মহুয়া বিতর্কে তৃণমূল যে সেভাবে তাঁর পাশে দাঁড়াল না, এটা তার অন্যতম কারণ।