
শেষ আপডেট: 7 April 2024 15:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মায়াপুরের ইসকনে দীর্ঘদিন ধরে দুই হাতিকে দেখাশুনা করেন দুই মাহুত। প্রতিদিনের মতো শনিবারও মাহুতদের সঙ্গেই ঘুরতে বেরোয় 'বিষ্ণুপ্রিয়া' ও 'লক্ষ্মীপ্রিয়া'। ফিরে এসে খেতে দিতে গিয়েই আচমকা রেগে যায় গজরাজ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাহুতকে পিষে মারল 'লক্ষ্মীপ্রিয়া’।
নদীয়ার মায়াপুর ইসকনের হাতিশালার ঘটনাটিতে মৃত মাহুতের নাম সমুদ্র রাভা। আনুমানিক বয়স ২৭ বছর। তাঁর বাড়ি অসমের কামরূপ জেলার ডুলিয়া গ্রামে। সূত্রের খবর, শনিবার রাতে হাতিকে খাবার দিতে গিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত আবস্থায় মাহুতকে স্থানীয় মায়াপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মাহুতকে মৃত বলে ঘোষণা করে। ঘটনায় অন্য আরও একজন মাহুত আহত হয়েছেন। তিনি মায়াপুরের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শান্ত বলেই পরিচিত ইসকনের বিষ্ণুপ্রিয়া আর লক্ষ্মীপ্রিয়া নামের দুই হাতি। দুজন মাহুত তাদের কাছে নতুন তেমনটাও নয়। দীর্ঘদিন ধরে হাতি দুটির দেখভাল করছেন তাঁরা। কিন্তু লক্ষ্মীপ্রিয়া হঠাৎ কেন রেগে গিয়ে চড়াও চালল তা বুঝে উঠতে পারছে না মন্দির কর্তৃপক্ষ। এপ্রসঙ্গে মায়াপুর ইসকনের জনসংযোগ আধিকারিক রসিক গৌরাঙ্গ দাস জানিয়েছেন, এর আগে কখনও ওই দুটি হাতি অশান্ত হয়ে ওঠেনি। অন্যান্য দিনের মত শনিবার সন্ধ্যাতেও তাদের ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হয়। মাহুতের মৃত্যু কী করে হল তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলেই বোঝা যাবে।
মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতে হাতিকে খাবার দিতে যান সমুদ্র রাভা। সেই সময়ই মাহুতকে পিলারে পিষে দেয় হাতিটি। হাতির এমন বেগতিক পরিস্থিতি দেখে অপর মাহুত উপর থেকে লাফ দেন। তাঁরও গুরুতর আঘাত লাগে। তবে ঠিক কীভাবে মাহুতের মৃত্যু হয়েছে তার তদন্ত শুরু করেছে মায়াপুর ফাড়ি ও নবদ্বীপ থানার পুলিশ।
রাজ্যের কোনও কোনও জেলায় মাঝে মধ্যেই হাতির হানায় মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তবে ইসকনের এই ঘটনায় ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।