দ্য ওয়াল ব্যুরো ; গত ২৬ অক্টোবর আচমকা শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহেকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপাল শ্রীসেন। তাঁর জায়গায় প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ করেন মাহিন্দ্রা রাজাপক্ষেকে। সেইসঙ্গে বন্ধ রাখেন পার্লামেন্টের অধিবেশন। পরে আন্তর্জাতিক চাপে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন, পার্লামেন্টের অধিবেশন ডাকবেন শীঘ্র। সেখানে রাজাপক্ষে গরিষ্ঠতা প্রমাণ করবেন। কিন্তু অধিবেশন শুরুর আগেই জানা যাচ্ছে, গরিষ্ঠতা জোগাড় করতে পারেননি রাজাপক্ষে। ফলে শ্রীলঙ্কায় নতুন করে সাংবিধানিক সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা আছে।
শ্রীলঙ্কার সংসদে আসনের সংখ্যা ২২৫টি। গরিষ্ঠতা পেতে গেলে ১১৩টি আসন প্রয়োজন। শুক্রবার দেশের শাসক ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্সের মুখপাত্র কেহেলিয়া রামবুকোয়েলিয়া বলেন, এই মুহূর্তে ১০৫ থেকে ১০৬ জন এমপি আমাদের সঙ্গে আছেন। কেহেলিয়া এখন দেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী।
এর আগে শ্রীসেন এক জনসভায় ঘোষণা করেছিলেন, তাঁদের পক্ষে ১১৩ জন এমপি আছেন। আপাতত জানা যাচ্ছে, ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির আটজন এবং তামিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের একজন এমপি দলত্যাগ করে রাজাপক্ষেকে সমর্থন করবেন। এইভাবে অন্য দল থেকে এমপি ভাঙিয়েই রাজাপক্ষে সংসদে গরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু এদিন এক মন্ত্রীই জানিয়ে দিলেন, তাঁদের গরিষ্ঠতা নেই। সংসদে ভোটাভুটি আগামী ১৪ নভেম্বর। তার আগে আরও কয়েকজন বিরোধী এমপি রাজাপক্ষের দিকে আসেন কিনা সেদিকে নজর রাখছেন পর্যবেক্ষকরা।
গত ভোটে শ্রীসেন ও বিক্রমসিংহে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছিলেন রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে । তামিল জঙ্গিদের দমন করতে গিয়ে মানবাধিকার ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়া দুর্নীতির অভিযোগও ছিল । তাঁকে পরাজিত করার পরে নতুন সরকারে প্রেসিডেন্ট হন শ্রীসেন । প্রধানমন্ত্রী হন বিক্রমসিংহে । কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরেই শ্রীসেনের সঙ্গে বিক্রমসিংহের বনিবনা হচ্ছিল না। মূলত অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষার বিষয়ে মতভেদ হচ্ছিল না দুজনের । সেই মতভেদ বাড়তে বাড়তে চূড়ান্ত জায়গায় পৌঁছলে শ্রীসেন বরখাস্ত করেন তাঁর একসময়কার মিত্র বিক্রমসিংহেকে । তাঁর জায়গায় ক্ষমতায় বসিয়ে দেন তাঁর পুরানো প্রতিদ্বন্দ্বীকে । রাজাপক্ষে দ্রুত শপথও নিয়ে নেন ।
এই সময় শ্রীসেনের বিরুদ্ধে কার্যত বিদ্রোহ করেন সংসদের স্পিকার কারু জয়সূর্য । তিনি বলেন, শ্রীসেন যেভাবে প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করেছেন এবং সংসদের অধিবেশন বন্ধ রেখেছেন, তা অসাংবিধানিক । এবার রাজাপক্ষে যদি গরিষ্ঠতা প্রমাণ না করতে পারেন, শ্রীসেনের বিরোধীরা আরও সরব হবেন বলেই পর্যবেক্ষকদের ধারণা ।