
শেষ আপডেট: 30 July 2018 13:59
প্রথম স্ত্রী কিরণের সঙ্গে মহেশ ভাট [/caption]
তবে জীবনে অনেক আক্ষেপ রয়েছে পরিচালকের। আজকের সফল মহেশ ভাট বলেন, "আমি কোনও দিনই তেমন ছেলে হতে পারিনি, যেমনটা আমার মা চাইতেন। আমি চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পারিনি। স্কুলেও কোনও দিন ভালো ছাত্র ছিলাম না আমি। ভালো চাকরিও পাইনি। যে কোনও কাজ করতে গেলেই গন্ডগোল হয়ে যেত। তবে হ্যাঁ, নিজের অক্ষমতা, অসহায়তা এগুলো আমি প্রকাশ্যে বলতে পেরেছি। আর এই সব ব্যর্থতা, বাবার অনুপস্থিতি এগুলোই আমায় আজকের আমি বানিয়েছে।"
[caption id="attachment_23066" align="aligncenter" width="1080"]
সোনি রাজদানের সঙ্গে মহেশ ভাট[/caption]
মহেশ ভাটের মা শিরিন মহম্মদ আলি ছিলেন এক জন গুজরাটি অভিনেত্রী। আর তাঁর বাবা ছিলেন, গুজরাটের ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান নানাভাই ভাট। মহেশ বলেছেন, "আমার জীবনে বাবা ছিলেন আগন্তুকের মতো। বাবা নাম রেখেছিলেন মহেশ। যাঁর অর্থ মহা ঈশ্বর। তবে আমার কিন্তু ছোট থেকেই গণেশ খুব পছন্দের। কারণ তাঁর জীবনের মতোই আমার জীবনেও বাবা ছিলেন আগন্তুকের মতো। বালিশের তলায় গণেশের মূর্তি রেখে ঘুমোতাম আমি।"
[caption id="attachment_23067" align="aligncenter" width="600"]
বাবার সঙ্গে পূজা[/caption]
মহেশের সাংসারিক জীবনও বিশেষ গোছানো নয়। বরং বেশ ঘেঁটে যাওয়া। ছেলে রাহুল আর মেয়ে পূজা যখন খুব ছোট, সেই সময়েই প্রথম বিয়ে ভাঙেন তিনি। প্রথম পক্ষের স্ত্রী কিরণকে ছেড়ে বিয়ে করেন সোনি রাজদানকে। দ্বিতীয় পক্ষেও দুই মেয়ে হয় মহেশের। তবে ছেলে মেয়েদের সঙ্গে কখনই সম্পর্ক খারাপ হয়নি তাঁর। পূজা তাঁর বড় মেয়ে। আর প্রথম সন্তান তো সব বাবার কাছেই বড্ড আদরের হয়। তবে ছেলে রাহুলের সঙ্গে প্রাথমিক ভাবে সম্পর্ক কিছুটা জটিল হলেও এখন কিন্তু তা খুব সহজ-সরল-স্বাভাবিক। মহেশ বলেন, "ও এক জন সেলফ-মেড ম্যান। আমার নাম ভাঙিয়ে ও জীবনে কিছুই করেনি। যা করেছে নিজের যোগ্যতায়। আর আমার ব্যর্থতা, অক্ষমতা এসব নিয়েও কখনও কোনও প্রশ্ন তোলেনি রাহুল। ওর জন্য খুব গর্ব হয় আমার।"
[caption id="attachment_23064" align="aligncenter" width="875"]
আলিয়া এবং মহেশ ভাট[/caption]
দ্বিতীয় পক্ষের দুই মেয়েও তাঁর খুবই কাছের। মহেশ বলেন, "মায়ের পর শাহিনকে পেয়ে আমি খুব খুশি। মা আমায় যেভাবে বুঝত, শাহিনও ঠিক সেভাবেই আমায় বোঝে। আর আলিয়া? ওর জন্যেই তো ভাট ব্র্যান্ড আজ এতটা প্রতিষ্ঠিত। ধন্যবাদ ওকে। একটা সময় আমি খুব ভয়ঙ্কর বাবা ছিলাম। আগেই বলেছি আমার জীবনে আমার বাবার কী ভূমিকা। তাই ঠিক বুঝতেই পারতাম না কী করা উচিত। তবে এখন আমি আমার সন্তানদের পছন্দের বাবা-ই হতে চাই। মানসিক ভাবে ওদের পাশে সবসময় থাকার চেষ্টা করি।"