দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্র নিয়ে নিজেদের হতাশা লুকিয় রাখল না কংগ্রেস। তবে সিদ্ধান্ত নিতে তাদের দেরি হওয়া নিয়ে দলের মধ্যেই যে আঙুল উঠছে, তাকে সটান খারিজ করে দিয়েছেন বরিষ্ঠ কংগ্রেস নেতা আহমদ পটেল। তাঁদের কোনও বিধায়ককে বিজেপি কিনতে পারবে না বলেও দৃঢ় ভাবে জানিয়েছেন সনিয়া গান্ধীর ঘনিষ্ঠ এই কংগ্রেস নেতা।
ঠিক ছিল শনিবার বিকালে সমর্থনের চিঠি নিয়ে রাজভবনে গিয়ে সরকার গড়ার দাবি জানাবে শিবসেনা। কিন্তু সকালেই, সকলের অলক্ষ্যে এনসিপির সমর্থনে মহারাষ্ট্রে শপথ নিয়ে নিলেন বিজেপির দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ। তিন দলের সরকার গড়া যখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা, তখন এমন ঘটনায় হতাশ কংগ্রেস।
কংগ্রেস নেতা আহমেদ পটেল শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, এখনও তাঁরা (এনসিপি, শিবসেনা ও কংগ্রেস) একসঙ্গেই আছেন। যা সিদ্ধান্ত হবে একসঙ্গেই হবে। বিধানসভার অধিবেশন বসলেই আস্থা ভোট। তখনও তাঁরা একজোট হয়ে বিজেপিকে হারানোর চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন পটেল।
আরও পড়ুন: ওদের সরকার গড়ার মতো গরিষ্ঠতা নেই, দাবি উদ্ধব, শরদের
সরকার গড়তে দেরি হয়েছে বলে কংগ্রেসের মধ্যে যে ঘুরপথে অভিযোগ উঠেছে, সেই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন আহমেদ পটেল। তিনি বলেছেন, ১১ নভেম্বর উদ্ধব ঠাকরে কংগ্রেসকে ফোন করেন। ঠিক তার পরের দিনই তাঁরা মুম্বইয়ে চলে আসেন। তবে বেশ কয়েকটি আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ করতে হয়েছে, তাতে যেটুকু সময় লাগার সেইটুকু সময়ই লেগেছে। কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি জানিয়েছিলেন, কংগ্রেস অনেকটা দেরি করে ফেলাতেই সুযোগ পেয়ে গেছে বিজেপি।
আরও পড়ুন: কংগ্রেস দেরি করল বলেই বিজেপি সুযোগ পেয়ে গেল, আফসোস অভিষেক মনু সিঙ্ঘভির
তবে সিংভির মতকে তাঁর ব্যক্তিগত মত বলেছেন আহমেদ পটেল। তিনি বলেন, “আমাদের সবই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। তার ভিত্তিতে শরদ পওয়ার ঘোষণাও করে দিয়েছিলেন। দু’একটা ব্যাপারে সামান্য আলেচনা হওয়ার কথা ছিল আজ সকালে। সে সব ব্যাপার বিরাট কিছু নয়। কিন্তু তার আগেই এই কাণ্ড ঘটে গেল।”
বিজেপির বিধায়ক কিনে সরকার গড়ার নিন্দা করে তিনি বলেন, বিজেপি লজ্জার সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। তাঁরা এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ভাবে ও আইনের পথে লড়বেন।
তিনি বলেন, “বিধানসভা শুরু হলে আমরা মিলিত ভাবেই রণনীতি গ্রহণ করব।” এক সপ্তাহের মধ্যেই আস্থা ভোটে জিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে হবে দেবেন্দ্র ফড়ণবীশকে। তখন তিন দল একজোট হয়ে বিজেপিকে পরাজিত করার চেষ্টা করবে।