দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রে জোট সরকার হওয়ার পরে এবার কি ধর্মনিরপেক্ষতাকে আঁকড়ে ধরবে শিবসেনা? সরাসরি এই প্রশ্নের কোনও উত্তর না দিয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে পাল্টা প্রশ্ন করে জানতে চান, “ধর্মনিরপেক্ষতা কাকে বলে?” পরে তিনি বলেন, দেশের সংবিধানে যা নির্দেশ করা রয়েছে তাই মেনে চলবে তাঁর দল শিবসেনা।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে উদ্ধব ঠাকরেকে প্রশ্ন করা হয়, যে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি ও কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর জোটের শর্ত ধর্মনিরপেক্ষতা কিনা, সে বিষয়ে। তখনই তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, “ধর্মনিরপেক্ষ কী? এ নিয়ে সংবিধানে কী আছে?” প্রশ্নের উত্তর এ ভাবেই এড়িয়ে যান তিনি।
মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে উদ্ধব ঠাকরে শপথ নেন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। তার আগেই মহা বিকাশ আগদির নেতারা সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়ে দেন তাঁদের ধর্মনিরপেক্ষতার ললাইনের কথা। শিবসেনার একনাথ মুণ্ডের উপস্থিতিতেই এনসিপি নেতা জয়ন্ত পাটিল বলেন, “ধর্মনিরপেক্ষতা কথার মানে হল হিন্দুরা হিন্দুই থাকবেন এবং মুসলমানরা মুসলমান। যাঁরা বিষয়টি বোঝেন না, তাঁদের জন্য এ কথা বলছি।” এঁরা দুজনেই উদ্ধব ঠাকরের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে শপথ নিয়েছেন।
কড়া হিন্দুত্বের জন্যই শিবসেনা পরিচিত। মুখ্যমন্ত্রিত্ব পদ নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে বিজেপি জোট থেকে বেরিয়ে যায় শিবসেনা। পরে তারা মুখ্যমন্ত্রিত্ব পাওয়ার শর্তে এনসিপি ও কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ে।
দিন দুয়েক আগেই লাগামছাড়া ভাবে শিবসেনাকে আক্রমণ করেন মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ। বিজেপির এই নেতা বলেন, “সনিয়া গান্ধীর (কংগ্রেস সভানেত্রী) চরণে হিন্দুত্ব সঁপে দিল শিবসেনা।” তিনি এই তিন দলের জোটকে তিনচাকা গাড়ির সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, চাকাগুলি পরষ্পরের বিপরীতে ঘুরছে। তিনি বলেন, “এই সরকার খুবই দুর্বল হবে, কারণ এদের মধ্যে কোনও আদর্শগত মিল নেই।”
#সরিবালাসাহেব হ্যাসট্যাগ দিয়ে বিজেপি প্রচারেও নেমেছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়, তাদের বক্তব্য ছিল, বালাসাহেব ঠাকরের হিন্দুত্বের ধারার সঙ্গে প্রতারণা করলেন তাঁর ছেলে উদ্ধব ঠাকরে।
জনতার রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে সরকার গড়ার জন্য নতুন জোটের সমালোচনা করেছেন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকরও। ২৮৮ আসনের মহারাষ্ট্র বিধানসভায় বিজেপি ও শিবসেনা জোট সরকার গড়ার মতো গরিষ্ঠতা পেয়েছিল, কিন্তু সেই জোট ভেঙে যায়। ১০৫টি আসন পেয়েও বিরোধী আসনে বসতে হচ্ছে বিজেপিকে। এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ারের সঙ্গে জোট করে সরকার গড়ে ফেলেন বিজেপির দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ, যদিও তিন দিনের বেশি স্থায়ী হয়নি সেই সরকার।