
শেষ আপডেট: 25 June 2022 10:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বই-সহ মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) বিভিন্ন শহরের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। উদ্ধব ঠাকরের (Uddhav Thackrey) সরকার বলতে গেলে ভেন্টিলেশনে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যপালের কাছে সরকার গড়ার দাবি পেশ করার পর উদ্ধবের পক্ষে বেশিক্ষণ গদি আঁকড়ে থাকা সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াচ্ছে আঁচ করে পুলিশ-প্রশাসন প্রস্তুত হচ্ছে পরিবর্তিত অবস্থা সামাল দিতে। মুম্বইয়ের পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় পাণ্ডে খানিক আগে গোটা শহরে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে মিটিং-মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
এদিকে, শিন্ডে (Eknath Shinde) তাঁর গোষ্ঠী তথা ভাবী দলের সঙ্গে বালাসাহেবের নাম যুক্ত করায় পাল্টা পদক্ষেপ করলেন উদ্ধব। একটু আগে দলের কর্মসমিতির বৈঠক ডেকে প্রস্তাব গ্রহণ করেন, বালাসাহেবের নাম অন্য দল ব্যবহার করতে পারবে না। যদিও এই প্রস্তাবের আইনি বৈধতা নিয়ে সন্দেহ আছে। কারণ, নেতা কিংবা দলের নামের কোনও কপিরাইট হয় না। বালাসাহেবের নামে যে কেউ পার্টি গড়তে পারেন। নামের সঙ্গে কংগ্রেস কথাটি আছে এমন দল দশের বেশি আছে দেশে।

আসলে সরকার হাতছাড়া হওয়া সময়ের অপেক্ষা বুঝে গিয়েছেন উদ্ধব। তাঁর এখন লক্ষ্য যে করে হোক পার্টিকে দখলে রাখা। সেটাও কতটা সম্ভব হবে বলা মুশকিল। কারণ, বিধায়কদের পাশাপাশি অর্ধেকের বেশি সাংসদ এবং পুরসভার প্রাক্তন কমিশনারদের বড় অংশ শিন্ডের প্রতি আস্থাজ্ঞাপন করেছে। মহারাষ্ট্রে এই মুহূর্তে মুম্বই-সহ বহু পুরসভায় নির্বাচিত বোর্ড নেই। ফলে প্রাক্তন কাউন্সিলর/কমিশনাররা দুই শিবিরে বিভক্ত।
শিন্ডে প্রথম থেকেই বলে আসছিলেন, শিবসেনার সঙ্গে তাঁর বিরোধ নেই। তিনি অনুগত সৈনিক। কিন্তু সেটা উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা নয়। তাঁর যাবতীয় আনুগত্য প্রয়াত বালাসাহেব ঠাকরের প্রতি। বালাসাহেবের শিবসেনাকে ফেরাতে চান তিনি। সেই মতো নিজের গোষ্ঠীর নাম বালাসাহেবের নামে রেখেছেন। আর তাতেই চরম বিপাকে পড়েছেন উদ্ধব। কারণ, শিবসেনায় বালাসাহেব নিছক প্রতিষ্ঠাতা নন, মৃত্যুর দশ বছর পরও দল চলে তাঁকে ঘিরে আবেগকে পুঁজি করে।
এদিকে, শিন্ডে ক্যাম্প ক্রমশ সক্রিয় হয়ে ওঠায় পুলিশ-প্রশাসনের মধ্যে তার ছাপ পড়তে শুরু করেছে। শিন্ডে আগামী দিনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অথবা উপমুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন ধরে নিয়েই তাঁর থানের বাড়ি পুলিশ ঘিরে রেখেছে। মুম্বইয়ের পুলিশ কমিশনার গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিলীপ পাটোলের সঙ্গে দেখা করে জানিয়ে দিয়েছেন, পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কী কী পদক্ষেপ করছে। মুম্বই পুলিশ নানাভাবে বার্তা দিয়েছে, গোলমাল করলে কোনও পক্ষকেই তারা ছাড়বে না। পুলিশ এমনকি সমাজমাধ্যমেও রাজনৈতিক উস্কানিমূলক মন্তব্য এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।