দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল রাজ্যসভায় পাশ হওয়ার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মহারাষ্ট্র পুলিশের আইজি আবদুর রেহেমান। টুইট করে এই আইপিএস অফিসার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার থেকে নিজের অফিসে যাবেন না।
গত ২১ বছর ধরে মহারাষ্ট্র প্রশাসনের একাধিক পদে ছিলেন এই পুলিশ কর্তা। একটি বইও রয়েছে তাঁর। তাঁর লেখা 'Denial and Depreviation' বইতে তিনি লিখেছেন, সাচার কমিটি ও রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশনের রিপোর্টের পরও এদেশে মুসলিম নাগরিকদের উপর কী ভাবে বঞ্চনা চলেছে।
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলকে সরাসরি অগণতান্ত্রিক ও সংবিধান বিরোধী বলে তোপ দেগেছেন আবদুর রেহেমান। তাঁর কথায়, "আমরা দেখেছি অসমে এনআরসি করে কী হয়েছে। ভয়াবহ পরিস্থিতি। ১৯ লক্ষ মানুষ রাতারাতি রাষ্ট্রীয় পরিচয়হীন হয়ে পড়েছেন।" তিনি আরও বলেন, "অসমে এনআরসির প্রভাব পড়েছে সাধারণ গরিব তফসিলি জাতি-উপজাতি, আদিবাসী ও মুসলমানদের উপর। নথি জোগার করতে গিয়ে কত পয়সা খরচ হয়ে যাচ্ছে।"
https://twitter.com/AbdurRahman_IPS/status/1204770699614703617?s=08
এই পুলিশ কর্তার কথায়, যে বিল আনা হয়েছে তাতে শুধুমাত্র মুসলমানদেরই নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে। এটা ভারতবর্ষের সংবিধানের পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, "আমি সমাজকর্মীদের আবেদন করব, তাঁরা যেন এটা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যান" সোমবার লোকসভার মতো বুধবার রাজ্যসভাতেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, "ভারতীয় মুসলিমদের কোনও সমস্যা নেই।" আবদুর রেহেমানের বক্তব্য, শুধুমাত্র মুসলমানদের নিশানা করেই এই বিল আনা হয়েছে।

লোকসভায় হাসতে হাসতে বিল পাশ করিয়ে নিয়েছে বিজেপি। খটকা ছিল রাজ্যসভার অঙ্ক নিয়েই। যদিও বুধবার রাত ন'টা নাগাদ সংসদের উচ্চকক্ষে ভোটাভুটির পর দেখা যাচ্ছে সরকারের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ১২৫জন। বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন ১০৫জন। লোকসভায় বিল পাশ হওয়ার পর থেকেই উত্তর-পূর্বে শুরু হয়েছে হিংসা, বনধ। ত্রিপুরা এবং অসমে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ কর্তার ইস্তফা তাতৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।