দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্চের শেষ থেকেই সংখ্যাটা বাড়ছে মহারাষ্ট্রে। একের পর এক পুলিশকর্মী করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। আজ বৃহস্পতিবার ২৮ মে, রাজ্যের পুলিশকর্মীদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের যে হিসেব মহারাষ্ট্র পুলিশ সামনে এনেছে তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। হিসেব বলছে, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে করোনা আক্রান্ত পুলিশকর্মীর সংখ্যা ২০৯৫ জন। গতকালই কোভিড পজিটিভ ছিলেন ১৩১ জন।
রাজ্য পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, করোনা আক্রান্ত ২০৯৫ জন পুলিশকর্মীর মধ্যে ২৩৬ জন অফিসার এবং ১৮৫৯ জন কনস্টেবল। আক্রান্তরা রাজ্যের বিভিন্ন হটস্পট এলাকায় মোতায়েন ছিলেন। কোভিড পজিটিভ পুলিশকর্মীদের মধ্যে অনেকেরই উপসর্গ পরে ধরা পড়ে। মৃদু সংক্রমণ নিয়েও আইসোলেশনেও রয়েছেন অনেকে। সূত্রের খবর, সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়েছে ৮৯৭ জন পুলিশকর্মী। তাঁদের মধ্যে ৭৫ জন অফিসার ও ৮২২ জন কনস্টেবল।
দেশে করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ১ লক্ষ ৫৮ হাজারে এসে পৌঁছেছে। মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি রীতিমতো উদ্বেগজনক। কেন্দ্রের হিসেব বলছে, মহারাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫৭ হাজার পেরিয়েছে। বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ের অবস্থা ভয়াবহ। সেখানেও সংক্রমণ বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। ভেঙে পড়ছে স্বাস্থ্য পরিষেবা। হাসপাতাল, নার্সিংহোমগুলিতে ঠাসাঠাসি ভিড়। জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মধ্যেও সংক্রমণ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিক্যাল স্টাফ থেকে পুলিশকর্মীরা।
সূত্রের খবর, মহারাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তদের ৩.৬ শতাংশই পুলিশকর্মী। আক্রান্তদের বেশিরভাগই মুম্বই ও তার সংলগ্ন এলাকা, নাসিকের মালেগাঁও শহরে মোতায়েন ছিলেন। তাছাড়াও রয়েছেন স্টেট রিজার্ভড পুলিশ ফোর্স তথা এসআরপিএফের কর্মীরা। ঔরঙ্গাবাদ, হিঙ্গোলি, জালনা, পুণের এসআরপিএফ ইউনিটের কর্মীরা বেশিরভাগই করোনা আক্রান্ত। সংক্রমণ সন্দেহে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে অনেককেই।
রাজ্য পুলিশের হিসেব বলছে, এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই পুলিশকর্মীদের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। হটস্পট চিহ্নিত এলাকাগুলিতে লকডাউন সামলাতে গিয়ে ভাইরাস সংক্রামিত হন অনেকেই। কোভিড রোগীদের পরিষেবা দেওয়া, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা, ইত্যাদির কারণেও সংক্রামিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসেন পুলিশকর্মীরা। যার থেকে তাঁদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে দেখা যায় অন্তত ৫০০ পুলিশকর্মী কোভিড পজিটিভ। ওই মাসের মাঝামাঝি সংখ্যাটা এক লাফে হাজারের গণ্ডি পেরিয়ে যায়।
বয়স ৫০ থেকে ৫৫ বছর এবং তার বেশি বয়সের পুলিশকর্মী যাঁদের ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে এমন ২৩ হাজার জনকে গ্রিন জ়োনের থানাগুলিরে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ৫৫ বছরের বেশি বয়সী ১২ হাজার পুলিশকর্মী যাঁরা নানা সময় কোভিড পজিটিভ রোগী বা তাঁদের পরিবার, পরিজনের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁদের বাড়িতেই কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।