দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাদাখ সীমান্তে চিনের সঙ্গে সংঘাতে ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে উত্তাপ বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতে বেজিংয়ের উদ্দেশে বার্তা দিতে বড় পদক্ষেপ করল মহারাষ্ট্রের উদ্ধব ঠাকরে সরকার। চিনা সংস্থাকে বরাত দেওয়া তিন প্রকল্পের কাজ স্থগিত করে দিল মহারাষ্ট্র।
এই তিন প্রকল্পে পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হওয়ার কথা ছিল। সম্প্রতি ম্যাগনেটিক মহারাষ্ট্র ২.০ থেকে এই তিনটি প্রকল্প চূড়ান্ত হয়েছিল বলে মহারাষ্ট্র সরকার জানিয়েছে। মহারাষ্ট্রের শিল্পমন্ত্রী সুভাষ দেশাই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীপদক্ষেপও কেন্দ্রের নির্দেশ মেনেই নেওয়া হবে।
সম্প্রতি চিন, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে মহারাষ্ট্র সরকারের ১২টি চুক্তি সই হয়েছিল। তার মধ্যে তিনটি চিনা সংস্থার সঙ্গে ছিল। সেই তিনটিই আপাতত স্থগিত করে দিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার। এর মধ্যে হেঙ্গলি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে ২৫০০ কোটি টাকা, গ্রেট ওয়াল মোটরসের সঙ্গে ৩৭৭০ কোটি টাকা এবং পিএমআই ইলেকট্রো মোবিলিটির সঙ্গে ১০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের চুক্তি হয়েছিল।
লাদাখের ঘটনার পর থেকে চিন বিদ্বেষ হু হু করে বাড়ছে। ক্রমশ জোরালো হচ্ছে চিনা পণ্য বয়কটের দাবি। এর মধ্যেই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে চিনের ব্যাপারে পদক্ষেপ শুরু করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। জানা গিয়েছে, চিন থেকে যেসমস্ত পণ্য আমদানি করা হয় তার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। বিস্তারিত তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে তালিকা তৈরি হচ্ছে। কোন কোন পণ্য চিন থেকে আসে, তাতে কর কত শতাংশ, সেই পণ্য যদি দেশে তৈরি হয় তার খরচ কী দাঁড়াবে, কাঁচা মাল পাওয়ার ক্ষেত্রে কতটা সুবিধা রয়েছে এসব পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে। চিন থেকে যে পরিমাণ পণ্য বিদেশে রফতানি হয় তার ১৪ শতাংশ আমদানি করে ভারত। ফলে ভারত যদি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে চিনের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাহলে বেজিংয়ের জন্য বড় ধাক্কা হবে বলে মত পর্যবেক্ষকদের। চিন থেকে ভারত যে সমস্ত জিনিস আমদানি করে তার মধ্যে অন্যতম, মোবাইল ফোন, টেলিকম, প্লাস্টিকের খেলনা।
তা ছাড়াও হাত ঘড়ি, দেওয়াল ঘড়ি, চুলের ক্রিম, শ্যাম্পু, ফেস পাউডার, চোখ এবং ঠোঁটের মেকআপ সামগ্রী, ছাপার কালি, রঙ, বার্নিশ, কিছু তামাকজাত দ্রব্যও চিন থেকে ভারতে আসে। তা ছাড়া জীবনদায়ী ওষুধের একটা বড় অংশ আসে ওদেশ থেকে।
লাদাখ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে উদ্ধব বলেছিলেন, ভারত যে দূর্বল নয় এবার চিনকে তা বুঝিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে। সেটাই যেন করে দেখালেন শিবসেনা প্রধান।