
শেষ আপডেট: 22 March 2022 03:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো : এ যেন আর এক সিঙ্গুর। তবে পুরোপুরি নয়। এখানেও শিল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জমি (Maharashtra Land) ফিরিয়ে দেওয়া হবে মালিকদের।
তবে এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে ভিন্ন কারণ। যে উদ্দেশে জমি নিয়েছিল সরকার, দেড় দশকেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তাই অধিগ্রহণ করা ১৫০০ একর জমি ফিরিয়ে দাওয়ার দাবি নিয়ে প্রশাসন এবং আদালতের দারস্থ হয়েছিলেন গ্রামবাসীরা (Maharashtra Land)। সোমবার শিল্প মন্ত্রী সুভাষ দেশই বিধানসভায় জানিয়েছেন, প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মাস তিনেকের মধ্যে জমি ফিরিয়ে দেওয়া হবে (Maharashtra Land)।
জায়গাটি (Maharashtra Land) মহারাষ্ট্রের রায়গডা জেলার। সেখানে ২০০৮ সালে রাজ্যের তৎকালীন কংগ্রেস সরকার ১৫০০ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা এসিজেড তৈরি করা। প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছিল মহা মুম্বই এসইজেড।

মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। এটা অনেকটা আগের মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের মতো ভাবনা। এসইজেডে কলকারখানা করলে শিল্প সংস্থাগুলিকে পণ্য বিদেশে রফতানির জন্য কোনও রফতানি শুল্ক দিতে হয় না। এছাড়া আয়করের ছাড় ছিল। দেশের শ্রম আইনগুলিও বলবৎ হয় না এসইজেডে। শিল্পের দ্রুত বিকাশে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। এটি শিল্প বিকাশের চিনা মডেল নামে পরিচিত।
কিন্তু গোটা দেশেই এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিবাদ শুরু হয়। বাদ যায়নি মহারাষ্ট্রও। তবে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের মতো রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের চেহারা নেয়নি সেটা। কিন্তু মেধা পাটেকর মত পরিবেশবাদী এবং বলিউডের বহু মানুষ চাষিদের পক্ষ নিয়ে জমি অধিগ্রহণে আপত্তি জানান। চাপের মুখে সরকার গণভোট নেয়। তাতে বিপুল সংখ্যায় চাষিরা জমি দিতে অস্বীকার করেন। প্রতিবাদের মুখে আর অগ্রসর হয়নি মহারাষ্ট্র সরকার।
২০০৮ থেকে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা জমি ফেরত দেওয়া নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। এত দিনে তা কাটিয়ে ওঠা গিয়েছে। সিঙ্গুরের পর মহারাষ্ট্র হল দ্বিতীয় রাজ্য যেখানে শিল্পের জন্য অধিগৃহিত এত বিপুল পরিমাণ জমি মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন : Farm Laws : বাতিল কৃষি আইনের পক্ষেই বেশিরভাগ কৃষক সংগঠন