দ্য ওয়াল ব্যুরো : সুপ্রিম কোর্টে ফের ধাক্কা খেল বিজেপি। বিরোধীদের দাবি মেনে মহারাষ্ট্রে আগামিকাল বুধবার আস্থাভোট করানোর নির্দেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা এদিন জানিয়ে দেন, আস্থাভোটের জন্য রাজ্যপাল ভগৎ সিংহ কোশিয়ারিকে অবিলম্বে প্রোটেম স্পিকার নিয়োগ করতে হবে। তাঁদের আরও নির্দেশ, আস্থাভোট করতে হবে ওপেন ব্যালটে। তা গোপন ব্যালটে করা যাবে না। তা ছাড়া আস্থাভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা রাখতে গোটা পর্বটি বিধানসভার অধিবেশন থেকে সরাসরি দূরদর্শনে সম্প্রচার করতে হবে।
এর আগে গত শনিবার একপ্রকার চুপচাপ মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন করে ফেলেছিলেন বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে ও এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ার উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর রাজ্যপাল ভগৎ সিংহ কোশিয়ারি জানিয়েছিলেন, আস্থা ভোটের জন্য সাত দিন সময় দেওয়া হল। তা হবে ৩০ নভেম্বর।
কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা এদিন রায় ঘোষণার সময় বলেন, আস্থাভোটের জন্য দেরি করা মানেই ঘোড়া কেনাবেচার সুযোগ করে দেওয়া। আদালত তা হতে দিতে পারে না। বরং গণতান্ত্রিক মূল্যকে টিকিয়ে রাখার জন্য চেষ্টা করার সর্বোচ্চ আদালতের মহান কর্তব্য। তাই চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই আস্থা ভোট করাতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায় শিবসেনা, এনসিপি এবং কংগ্রেসের রাজনৈতিক জয় বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। অনেকের মতে, গতকাল সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে শক্তি প্রদর্শন করে শরদ পাওয়ার-উদ্ধব ঠাকরেরা আসলে সুপ্রিম কোর্টকেই বার্তা দিতে চেয়েছিলেন। আদালতের বিচারপতিরা নিশ্চয়ই টিভিতে দেখেছেন যে বিরোধীদের সংখ্য়াগরিষ্ঠতা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আস্থাভোট দ্রুত করানোর নির্দেশ দেওয়া ছাড়া উপায়ন্তর ছিল না।
তবে বুধবার আস্থাভোট হতে হতে সন্ধ্যা গড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, মহারাষ্ট্র ভোটের ফল ঘোষণা হওয়ার পর বিধায়কদের শপথ গ্রহণ এখনও হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী বিধানসভার সব থেকে সিনিয়র সদস্য অর্থাৎ যিনি সব থেকে বেশি মেয়াদ ধরে সভার সদস্য তিনিই প্রোটেম স্পিকার হবেন। তিনি বাকি বিধায়কদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। সুতরাং ২৮৭ জনকে বিধায়ককে শপথ বাক্য পাঠ করাতেই বহু ঘন্টা লেগে যেতে পারে। তার পর আস্থাভোট নিয়ে বিতর্ক হবে। সব শেষে ভোটাভুটি।