দ্য ওযাল ব্যুরো: একটু নিশ্চিত অন্ন সংস্থানের জন্য ভিন্ রাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু কেউ ভাবেননি, আচমকাই এতটা অনিশ্চিত হয়ে যাবে জীবন। কোনও প্রস্তুতি ছাড়াই ২১ দিনের লকডাউনে কাজ বন্ধ হয়েছে বহু পরিযায়ী শ্রমিকের। বন্ধ হয়েছে বাড়ি ফেরার পথও। আবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ভয়েই হোক বা প্রশাসনিক নজরদারিতেই হোক, নিয়ম ভাঙাও সম্ভব নয়। ফলে আতান্তরে পড়েছেন তাঁরা। কাজ ছাড়া কী খাবেন, কোথায় থাকবেন, ফিরবেনই বা কীভাবে, তা এক বড় সমস্যা। এই অবস্থাতেই লুকিয়ে লুকিয়ে পণ্যবাহী ট্রাকে করে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছিলেন শ্রমিকের দল। পুলিশের হাতে ধরা পড়ে গেলেন তাঁরা।
রাজস্থান থেকে মহারাষ্ট্রে কাজ করতে যাওয়া প্রায় তিনশো শ্রমিক নিজেদের জীবন কার্যত বিপন্ন করে দু'টি ট্রাক কন্টেনারে লুকিয়ে ফিরছিলেন বাড়ি। বৃহস্পতিবারই পুলিশ উদ্ধার করেছে তাঁদের। লকডাউনের পরে কাজ হারিয়ে আশ্রয়ও হারিয়েছেন তাঁরা। উপায় নেই বাঁচার। তাই বাধ্য হয়ে লুকিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন বলে জানিয়েছেন পুলিশকে।
মহারাষ্ট্র পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ি চলাচলে নজরদারি চলেছে এখন। বিশেষ করে এক রাজ্য থেকে আর এক রাজ্যে যাওয়ার ঘটনায়। তাই তেলেঙ্গনা সীমানায় ট্রাক কন্টেনার দু'টিকে আটক করা হয়। চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করায় তিনি স্পষ্ট উত্তর দিতে না পারলে সন্দেহ হয় পুলিশের। তখনই দেখা হয় ডালা খুলে। অত শ্রমিককে ঠাসাঠাসি অবস্থায় এভাবে লুকিয়ে থাকতে দেখে পুলিশের চোখ চড়কগাছ। সামাজিক দূরত্ব মানা দূরের কথা, ন্যূনতম কোনও সাবধানতাই নেই। তাঁরা জানান, বাড়ি না ফিরলে বিপদে পড়বেন তাঁরা। পুলিশ অবশ্য সব জানার পরে এই ৩০০ শ্রমিককেই নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।
তথ্য বলছে, মহারাষ্ট্রে বাইরে থেকে কাজ করতে আসা শ্রমিকের সংখ্যা ১২ লক্ষ। সারা দেশের মতোই তাঁদেরও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা দিয়ে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছিল মহারাষ্ট্র সরকার। কেন্দ্রের তরফেও টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বাধ মানেনি তাতেও। সর্বোপরি, থাকার জায়গা করে উঠতে পারেননি এই শ্রমিকরা। তাই 'অসৎ' পথ অবলম্বন করেই ফিরতে চেয়েছিলেন বাড়ি।
গোটা দেশের প্রতিটি রাজ্যেই অসংখ্য শ্রমিক রয়েছেন অন্য রাজ্য থেকে আসা। পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই অন্য রাজ্যগুলিকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন এই দুই রাজ্যের শ্রমিকদের দেখভাল করার কথা। মহারাষ্ট্র সরকারও রাজস্থানের এই শ্রমিকদের টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ভয়ে আর দুশ্চিন্তায় যে অনেকেই দিশাহীন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।