দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাস্তার মাঝে দাউদাউ করে জ্বলছেন এক যুবতী। এমন বীভৎস ঘটনা দেখে থমকে গেছে ট্রাফিকও। বালতি বালতি জল ছুঁড়ে দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন পথচলতি মানুষ। গত সোমবার মহারাষ্ট্রের ওয়ার্ধায় একটি বাসস্ট্যান্ডের কাছে এমন ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল প্রশাসনকে। জ্বালাপোড়া ক্ষত নিয়ে সেই যুবতীকে ভর্তি করা হয়েছিল হাসপাতালে। আজ সকালেই জীবনের লড়াই থেমে গেছে নির্যাতিতার।
বছর পঁচিশের ওই যুবতীর নাম অঙ্কিতা পিসাড্ডে। ওয়ার্ধার দারোদা গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় অধ্যাপিকা। পুলিশ জানিয়েছে, ওয়ার্ধার একটি বেসরকারি হাসপাতালে এতদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন অঙ্কিতা। হাসপাতাল সূত্রে খবর, সারা শরীরে দগদগে ক্ষত ছিল যুবতীর। দু’ হাত, পা, পিঠের উপরের অংশ, মুখ-গলা পুরোপুরি পুড়ে গিয়েছিল। তাও বাঁচার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন অঙ্কিতা। হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই অপরাধীকে কঠিন শাস্তি দেওয়ার দাবি করেন পুলিশের কাছে। আজ সকালে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
অভিযুক্তের নাম বিকাশ নাগরালে। বয়স ২৭ বছর। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হিংনাঘাট থানার পুলিশ সুপার সত্যভীর বান্দিওয়ার।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি হিংনাঘাট টাউনের একটি বাসস্ট্যান্ডের কাছে এই ঘটনা ঘটে সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ। বাস ধরার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন অঙ্কিতা। বাইকে চেপে সেখানে এসে পৌঁছয় বিকাশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রথমে কথা কাটাকাটি, আচমকাই বাইক থেকে পেট্রল বার করে যুবতীর গায়ে ঢেলে দেয় বিকাশ। অঙ্কিতা চিৎকার করে উঠলে আগুন ধরিয়ে দেয় অভিযুক্ত। আর্তনাদ করে পাগলের মতো দৌড়োতে থাকেন যুবতী। এলাকার লোকজন ছুটে এসে বালতি করে জল ঢেলে দেন তাঁর গায়ে। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় কাছাকাছি একটি হাসপাতালে। এতদিন সেখানেই ভর্তি ছিলেন অঙ্কিতা।
পুলিশ সুপার সত্যভীর জানিয়েছেন, জেরায় অভিযুক্ত দাবি করেছে অঙ্কিতার সঙ্গে নাকি তার বছর দুয়েকের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ইদানীং সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছিলেন অঙ্কিতা। তাই আক্রোশেই এই কাজ করেছে সে। যদিও মৃতার পরিবারের লোকের দাবি, নানাভাবে অঙ্কিতাকে উত্যক্ত করত বিকাশ। জোরজবরদস্তি করত। অঙ্কিতা প্রতিবাদ করায় তাকে জ্যন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে।
এই ঘটনায় ক্ষোভের আগুন জ্বলেছে ওয়ার্ধায়। অপরাধীর কঠিন শাস্তির দাবিতে সরব এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ার-কন্যা সুপ্রিয়া সুলেও। তিনি বলেছেন, ‘‘নির্যাতিতার মৃত্যুর খবর শুনে আমি মর্মাহত। ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে এর বিচার হওয়া উচিত। রাজ্য সরকারের উচিত গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টা দেখা যাতে অপরাধী শাস্তি পায়। ’’
https://twitter.com/supriya_sule/status/1226708967721562112?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1226708967721562112&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.news18.com%2Fnews%2Findia%2Fmaharashtra-lecturer-set-ablaze-by-stalker-on-way-to-college-succumbs-to-her-injuries-2494061.html
ওয়ার্ধার পুলিশ সুপার বাসবরাজ তেলি জানিয়েছেন, তাকলাঘাট গ্রামের বাসিন্দা বিকাশ নাগরালের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। এর আগে নাকি একবার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে সে। যুবতীকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৭ ও ৩২৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।