
শেষ আপডেট: 14 October 2023 18:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার মহালয়ার দিন বহু মানুষ পিতৃতর্পণ করতে নদীতে নেমেছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেরই পূর্বপুরুষকে জল দানের কাজ সফল হয়েছে। কিন্তু অনেকেই আছেন, যাঁরা নদীতে নামার পর আর উঠে আসতে পারেননি। স্রোতে তলিয়ে গিয়ে তাঁদের কারও মৃত্যু হয়েছে, কারও আবার সন্ধানই পাওয়া যায়নি।
সেরকমই একজন হলেন শেখর মণ্ডল। ৫১ বছরের প্রৌঢ় শেখরের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে। স্ত্রী মহুয়াকে সঙ্গে নিয়ে পানিহাটির গিরিবালা ঘাটে তর্পণ করতে এসেছিলেন তিনি। স্ত্রীকে ঘাটে বসিয়ে রেখে গঙ্গায় নেমেছিলেন শেখর। কিন্তু আর উঠে আসেননি।
তাঁর স্ত্রী মহুয়া মণ্ডল জানিয়েছেন, শেখরবাবু কাশিপুর রাইফেল কারখানার অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। এদিন দু-তিনবার গঙ্গার জলে ডুব দেন তিনি। কিন্তু আর ওঠেননি। তাঁর সন্ধানে খড়দহ থানার পুলিশের উপস্থিতিতে ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি চলছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে অজয়ের জলে তলিয়ে গেছেন শ্রীধর চট্টোপাধ্যায় নামে ৬৫ বছরের এক প্রৌঢ়। তাঁর বাড়ি কাঁকসার বামুনারা এলাকায়। শনিবার সকালে ছয় বন্ধুর সঙ্গে অজয় নদে তর্পণ করতে এসেছিলেন তিনি। তবে বালি তোলার কারণে নদীর ভিতর যে গভীর গর্ত রয়েছে, জানা ছিল না তাঁর। তাই জলে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই তলিয়ে যান প্রৌঢ়।
সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় কাঁকসা থানায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছায় পুলিশ। স্থানীয়দের সাহায্যে প্রায় এক ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয় শ্রীধরবাবুকে। তাঁকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
একই ঘটনা ঘটেছে হুগলি জেলাতেও। শনিবার ভোর থেকেই হুগলির গঙ্গার ঘাটগুলোতে তর্পণের জন্য ভিড় জমান মানুষ। উত্তরপাড়া-হিন্দমোটর অঞ্চলেও ভিড় ছিল প্রতিটি ঘাটে। হিন্দমোটরের বিবি স্ট্রিট ঘাটে তর্পন চলাকালীন আচমকা বানে তলিয়ে যান কয়েকজন। পাঁচজন বানের জলে ভেসে যান বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। খবর পেয়ে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ হাজির হয়। চন্দননগর পুলিশের ডিসিপি শ্রীরামপুর অরবিন্দ আনন্দ, এসিপি আলি রাজা ও উত্তরপাড়া থানার আইসি পার্থ সিকদার ঘাটে পৌঁছন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বান আসার সময় জানা থাকলেও পুলিশ সতর্ক করেনি। বান আসার পরে বাঁশি বাজানো হয়। ফলে জলে স্নান করতে নামা লোকজন ভেসে যান। নিখোঁজ ৫ জনের মধ্যে ৩ জনকে পরে খুঁজে পাওয়া গেলেও দুজনের সন্ধান মেলেনি। সমগ্র হুগলি জেলা মিলিয়ে এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ৪ জন নিখোঁজ বলে জানা গেছে। তাঁরা হলেন সৌম্য মজুমদার, সৌভিক দত্ত, স্বপন ভট্টাচার্য এবং গৌরাঙ্গ মণ্ডল। তাঁদের সন্ধানে ডুবুরি নামিয়ে চলছে তল্লাশি অভিযান।