দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু'বছর আগে পথ দুর্ঘটনায় পায়ে মারাত্মক চোট পেয়েছিলেন ৩৬ বছরের ডি অশোক কুমার। হারিয়েছিলেন চলাফেরার ক্ষমতা। তার পর থেকেই হুইলচেয়ারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু সব কিছু ধীরে ধীরে অভ্যেস হয়ে গেলেও, একটা আক্ষেপ কুরে কুরে খেত তাঁকে। কিছুতেই আগের মতো উঠে দাঁড়িয়ে নিজের দু' বছরের ছোট্ট মেয়েকে কোলে নিতে পারতেন না অশোক।
তাঁর কথা ভেবেই গবেষণা শুরু হয় মাদ্রাজ আইআইটি-তে। অবশেষে তাঁর আফশোস মিটিয়েছে তারা। খুব খুশি অশোক কুমার। তিনি বলেন, "অন্যদের কাছে এটা হয়তো খুব সামান্য একটা ব্যাপার। কিন্তু নিজে উঠে দাঁড়িয়ে মেয়েকে কোলে নিয়ে আদর করে আমি যে আনন্দ পেয়েছি, তা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।"
শারীরিক ভাবে অপারগ মানুষদের অনেককেই হুইলচেয়ারে বন্দি হয়ে জীবন কাটাতে হয়। তাঁদের চলা-ফেরা নির্ভর করে হুইলচেয়ারের উপরেই। কিন্তু হুইলচেয়ারে বসতে বা চলাফেরা করতে পারলেও, উঠে দাঁড়ানো সম্ভব হয় না। সে কথা ভেবেই এবার মাদ্রাজ আইআইটি র তরফ থেকে উন্নত প্রযুক্তিতে একটি হুইল চেয়ার তৈরি করা হয়েছে। এই হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরা প্রয়োজনে চেয়ারে থাকা অবস্থাতেই উঠে দাঁড়াতেও পারবেন কারও সাহায্য ছাড়া৷
গবেষকরা বলছেন, পঙ্গুত্বের হতাশা কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠে দাঁড়ানোর নতুন শক্তি জোগাবে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই হুইলচেয়ার। কাজের সঙ্গে মিলিয়ে যার নাম দেওয়া দেওয়া হয়েছে, 'অ্যারাইজ'। গত সপ্তাহেই নতুন এই হুইলচেয়ারের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থওয়ারচাঁদ গেহলট। ফোনিক্স মেডিক্যাল সিস্টেম এবং ইংল্যান্ডের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মাদ্রাজ আইআইটি-র সেন্টার ফর রিহ্যাবিলিটেশন রিসার্চ অ্যান্ড ডিভাইস ডেভেলপমেন্টের তৈরি এই হুইলচেয়ারের দাম পড়বে মাত্র ১৫ হাজার টাকা। ছোট, মাঝারি আর বড়-- এই তিন রকম মাপে পাওয়া যাবে হুইলচেয়ারটি।
বিদেশে এই হুইলচেয়ার আগেই পাওয়া যেত। কিন্তু এ দেশে তা আমদানি করতে, সব মিলিয়ে খরচ পড়ে যেত দেড় লক্ষ টাকা। এবার দশ গুণ কম দামে, নিজের দেশে তৈরি আধুনিক সেই হুইলচেয়ার ব্যবহার করতে পারবেন এ দেশের সাধারণ মানুষ। যাতে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ চলাফেরা করার সঙ্গে সঙ্গে, প্রয়োজনে কারও সাহায্য ছাড়া উঠেও দাঁড়াতে পারবেন তাঁরা।