
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 2 May 2024 18:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে মাধ্যমিকের ফলাফল। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে মাধ্যমিকের ফল ঘোষণা করেন। মোট ৯ লক্ষ ১২ হাজার ৫৯৮ জন পরীক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন। মোট ৭ লক্ষ ৬৫ হাজার ২৫২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় পাশ করেছেন। এ বছর পাশের হার ৮৬.৩১ শতাংশ।
অন্যদিকে অকৃতকার্য বা ফেল করা পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় দেড় লক্ষ। পর্ষদ সূত্রের খবর, গতবছর ফেল করা পড়ুয়ার সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ১১ হাজার। অর্থাৎ গতবারের চেয়ে এবারে অতিরিক্ত আরও প্রায় ৪০ হাজার পড়ুয়া ফেল করেছে। স্বভাবতই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষামহল। তাঁরা বলছেন, পাশের হার বাড়াতে ইতিমধ্যে মাধ্যমিকে সংক্ষিপ্ত এবং অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তারপরেও কীভাবে এত পড়ুয়া ফেল করল?
সম্প্রতি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী চাকরি খুইয়েছেন। টাকার বিনিময়ে চাকরিতে নিয়োগ করার অভিযোগ উঠেছিল। এক সঙ্গে এত পডুয়ার ফেলের নেপথ্যে ওই 'অযোগ্য শিক্ষকরাও' দায়ী বলে মনে করছেন শিক্ষকদের একাংশ।
অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টারস অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস(এ এস এফ এইচ এম) এর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক চন্দন মাইতি বলেন, "যেখানে কথাটা সিবিএসই কিংবা আইসিএসই-তে অকৃতকার্যের সংখ্যা নগণ্য থাকে সেখানে মাধ্যমিকে দেড় লক্ষ পড়ুয়ার ফেল করার ঘটনা যথেষ্ট উদ্বেগের। যেভাবে নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে, তারও প্রভাব যে পড়েছে সেটা তো স্পষ্ট।"
প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক স্তরে পাশ ফেল তুলে দেওয়াও এর একটা বড় কারণ বলে মনে করছেন শিক্ষকদের অনেকে। চন্দনবাবুর কথায়, "পাশ ফেল তুলে দেওয়া, দীর্ঘদিন বিদ্যালয়গুলিতে শূন্য পদে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ না হওয়া, যোগ্য শিক্ষকের অভাব, দিনের পর দিন নানান অছিলায় পঠন-পাঠন বন্ধ রাখা, সরকারি বিভিন্ন স্কিমে বৃত্তি, সাইকেল,ট্যাব, স্কুল ইউনিফর্ম, ইত্যাদি গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং পাশাপাশি দৈনন্দিন পঠন-পাঠনের উন্নতি এবং পরিচালনা বিষয়কে গুরুত্ব না দেওয়া এর একটা বড় কারণ।"
ফি-বছর গরমের কারণে যেভাবে প্রায় দেড় মাস সরকারি স্কুল বন্ধ রাখা হয়, পড়ুয়া ফেলের নেপথ্যে এটিও একটি বড় কারণ বলে মনে করছেন শিক্ষকদের অনেকে। চন্দনবাবু বলেন, "এবারের কথায় ধরুন না, গ্রীষ্মকালীন লম্বাছুটি তো একটা বড় কারণ। ২২ এপ্রিল থেকে স্কুল ছুটি পড়েছে, কবে খুলবে কেউ জানে না। কারণ ২ জুন স্কুল খোলার কথা বলা হলেও ৪ জুন ভোটের গণনা হবে। এছাড়াও ভোট পরবর্তী হিংসা ঠেকাতে বহুস্কুলে ভোট মিটে যাওয়ার পরও কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। তাই কবে স্কুল খুলবে কেউ জানে না।"