
শেষ আপডেট: 25 January 2024 13:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়সীমা বদলের আর্জি জানিয়ে মামলা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। সম্প্রতি মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। এই সময় এগিয়ে আনার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে একটি শিক্ষক সংগঠন। মামলাকারীদের দাবি, এই ভাবে হঠাৎ করে সময় এগিয়ে আনা হলে সমস্যায় পড়বে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। বিশেষ করে যারা দূর থেকে আসে। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এজলাসে মামলা চলছে। আজ বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে, রাজ্য সরকারের তরফে আইনজীবী জানান, অফিস টাইমে যানজটে ফেঁসে যেতে পারে পরীক্ষার্থীরা। তাই সময় এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার মাত্র কয়েকদিন আগে কেন সময় বদল করা হল সেই প্রশ্ন উঠেছে। এতদিন পর্যন্ত মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হত সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে, শেষ হত দুপুর ৩টেয়। প্রথম ১৫ মিনিট প্রশ্নপত্র পড়ে দেখার জন্য সময় দেওয়া হত পড়ুয়াদের। এবার সময় এগিয়ে আনা হয়েছে। পর্ষদের নোটিস অনুযায়ী, পরীক্ষা শুরু হবে ৯ টা ৪৫ মিনিটে, শেষ হবে দুপুর ১টায়। তাই তাড়াতাড়িই পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে হবে পরীক্ষার্থীদের।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের সময়সূচীতে এমন আচমকা বদল নিয়ে বুধবার হাইকোর্টে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে মামলা দায়ের করেছে শিক্ষক সংগঠন। মামলাকারীদের বক্তব্য, নতুন সময়ে পরীক্ষা হলে সমস্যায় পড়বে বহু ছাত্রছাত্রী। বিশেষত গ্রামাঞ্চল, পাহাড় বা সুন্দরবন এলাকার ছাত্রছাত্রীরা সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে পারবে না বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। মামলাকারীদের আবেদন শুনে হাইকোর্ট জানায়, এত সকাল সকাল দূরদূরান্ত থেকে পরীক্ষার্থীরা কীভাবে পরীক্ষাকেন্দ্র পৌঁছবে সে ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য দিতে হবে রাজ্য সরকার ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে। এ ব্যাপারে সরকারকে রিপোর্ট পেশ করতেও বলেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।
রাজ্যের বক্তব্য, অফিস টাইমের ব্যস্ততার আগেই যাতে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌছতে পরে, তাই সময় এগিয়ে এনে ৯টা ৪৫ করা হয়েছে। রাজ্যের আইনজীবীর দাবি, পরের দিকে ট্রাফিক আরও বাড়বে তখন সমস্যায় পড়তে পারেন পরীক্ষার্থীরা। রাজ্যের তরফে এও দাবি করা হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের স্কুল কোথায় তা দেখেই পরীক্ষাকেন্দ্র নির্বাচন করা হয়েছে। সুবিধা-অসুবিধা দেখেই সময়সূচীতে বদল আনা হয়েছে।
রাজ্যের যুক্তি শুনে বিচারপতির বক্তব্য, অনেক দূর থেকে বাসে করে বা প্রত্যন্ত এলাকা থেকে নদী পেরিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয় অনেক পরীক্ষার্থীকেই। শীতকালে প্রত্যন্ত এলাকার পরিস্থিতির কথা তো রাজ্যের অজানা নয়। তাই বোর্ডকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে কোনও পরীক্ষার্থীর অসুবিধা না হয়। বিচারতি এও বলেন, রাজ্য বা বোর্ড হেল্পলাইন নম্বর চালু করুক। যে পরীক্ষার্থীরা অসুবিধার কথা জানাবে, তাদের সকালে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিতে ব্যবস্থা নিতে হবে রাজ্য সরকারকে।