
শেষ আপডেট: 3 June 2022 10:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুলে আইনস্টাইনের E = mc2 ইকুয়েশন নিয়ে বক্তৃতা দিয়েছিল শ্রুতর্ষী ত্রিপাঠী। প্রশংসাও পেয়েছিল। সম্ভাবনা ছিলই। পাঠভবনের মেধাবী সেই পড়ুয়াই মাধ্যমিকে (Madhyamik 2022) রাজ্যের মধ্যে চতুর্থ। প্রাপ্ত নম্বর ৬৯০। যেকারণে এদিন সকাল থেকেই পাঠভবনে খুশির আবহ। ছাত্র-ছাত্রী সকলেরই ফল ভালো হয়েছে। সকাল থেকেই চলছে মিষ্টি বিলি। পড়ুয়া থেকে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী সকলেই খুশি।
স্কুলে মার্কশিট নিতে এসে শ্রুতর্ষী বলল, 'খুব ভালো লাগছে, ভাবতেই পারিনি ৪ নম্বরে থাকবো। আশা করেছিলাম ৭ থেকে ৮ নম্বরে নাম থাকবে। রেজাল্ট ঘোষণার সময় বাবা পাশে ছিলেন। মা ঠাকুরঘরে। রেজাল্ট ভালো হবে বিশ্বাস ছিল। কিন্তু প্রথম দশে স্থান পাব, ভাবিনি। বন্ধুরা অভিনন্দন জানিয়েছে। বাবা মা পাশে না থাকলে এত ভালো রেজাল্ট করতে পারতাম না। রোজ প্রায় ১০ ঘন্টা পড়াশোনা করতাম। আমার প্রিয় বিষয় ফিজিক্স। বম্বে আইআইটিতে পড়ার ইচ্ছে আছে।'

পাঠভবন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শুভা গুপ্ত বললেন, 'শ্রুতর্ষী ছোট থেকেই লেখাপড়ায় ভালো। আমাদের বাকি ছাত্র-ছাত্রীরাও ভালো পরীক্ষা দিয়েছে। সবারই ফল ভালো। আমাদের স্কুলের পড়ুয়া প্রথম দশজনের মধ্যে রয়েছে, এটা স্কুলের গর্ব। অন্য পড়ুয়াদের মধ্যেও অনুপ্রেরণা জোগাবে। তবে আমরা নম্বর নিয়ে ইঁদুর দৌড়ে বিশ্বাস করিনা। পড়ুয়াদের বলি, এক-দুই নম্বর কম পেলেও যেন কেউ চিন্তা না করে।'
ছেলের সাফল্য নিয়ে শ্রুতর্ষীর মা মহুয়া ত্রিপাঠী বলেছেন, 'আমার অধ্যাপক স্বামী আমায় প্রথমেই বলে দিয়েছিলেন, চাকরি করা চলবে না। ছেলের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিতে হবে। আমি এই পর্যন্ত তাই করে এসেছি। আমাদের বাড়িতে টিভি ছিল। ছেলের টিভির প্রতি ঝোঁক ছিল। তাই অনেকবছর আগেই টিভির কেবল কানেকশন কেটে দিই। ছেলে সারাদিন পড়াশোনাই করত। মাঝে মধ্যে গল্পের বই পড়ত। ওর এই রেজাল্টে আমরা খুব খুশি।'

সেলিমপুরের বাসিন্দা শ্রুতর্ষীর বাবা শুভঙ্কর ত্রিপাঠী বেহালা সরশুনা কলেজের অধ্যক্ষ। তিনি ফিজিক্স পড়ান। ছেলের পড়াশোনা নিয়ে শুভঙ্করবাবু বললেন, 'আমি ছোট থেকেই ওকে হাতেকলমে ফিজিক্স শেখানোর চেষ্টা করতাম। ওর খুব আগ্রহ ছিল। লেখাপড়া ছাড়া অন্য কোনও দিকে মন ছিল না। যেকারণেই ভালো ফল হয়েছে। আমরাও সাহায্য করেছি। তবে এই সাফল্য ওর নিজের।'
এদিনই স্কুলে একটি প্রকাশনা সংস্থার এজেন্ট এসে শ্রুতর্ষীর সঙ্গে বিজ্ঞাপনের বিষয়ে কথা বলে গিয়েছেন। তাঁদের ইচ্ছে, শ্রুতর্ষী তাঁদের সহায়ক বইয়ের বিজ্ঞাপন করুক। শ্রুতর্ষী বিষয়টিতে জানিয়েছে, সে ওই প্রকাশনীর বই পড়েছে। তাই বিজ্ঞাপনে তাঁর আপত্তি নেই।

বন্ধু-সহপাঠীরাও শ্রুতর্ষীর সাফল্যে খুশি। এবার মাধ্যমিকে কলকাতা থেকে মাত্র একজন পড়ুয়াই প্রথম দশে স্থান পেয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই পাঠভবনের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরাও খুশি।
রাজ্য থেকে ধৃত প্রথম আইএস জঙ্গি মুসাকে যাবজ্জীবন সাজা শোনাল আদালত