
শেষ আপডেট: 3 April 2024 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: সন্দেশখালির মতো তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখালেন মধ্যমগ্রামের মহিলারা। থানা ঘেরাও করলেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়ার কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়েছেন গ্রামের এক তৃণমূল নেতা ও তাঁর স্ত্রী। প্রায় তিন কোটি টাকার প্রতারণা হয়েছে। অভিযোগ দায়ের করার পরেও পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করছে না।
বুধবার মধ্যমগ্রাম থানা চত্বরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতির তৈরি হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কেন নেওয়া হচ্ছে না, এই দাবিতে রোহন্ডা চণ্ডীগড় গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় ৮৫ জন মহিলা থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান। থানার বাইরে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের বচসা শুরু হয়।
অভিযোগকারিণীরা জানিয়েছেন, রোজিনা বিবি ও তাঁর স্বামী আরফাজুদ্দিন মল্লিক একটি স্বনির্ভরগোষ্ঠী গড়ে তুলবেন বলে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁদের ভুল বুঝিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এরপরে পুলিশের কাছে জানাতে এলে কিছুতেই তাঁদের অভিযোগ নেওয়া হচ্ছিল না। পরে অভিযোগ দায়ের করতে পারলেও ওই নেতা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, আরফাজুদ্দিন মল্লিককে স্থানীয়রা সকলেই তৃণমূল নেতা হিসাবে চেনেন। এই ঘটনার সঙ্গে আরফাজুদ্দিনের বাবা বসির মল্লিক, মা সাহিদা বিবি, কাকা ওলি মহম্মদও যুক্ত। আরফাজুদ্দিন বিধায়ক তথা মন্ত্রী রথীন ঘোষের ঘনিষ্ঠ। তাঁরা এখন আরফাজুদ্দিনের স্ত্রী রোজিনার বাপেরবাড়িতে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। সেখানে গিয়ে টাকা চাইতে গেলে প্রতারিতদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সঙ্গে আরফাজুদ্দিনের কাকা ওলি মহম্মদ তাঁদের কুপ্রস্তাবও দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন মহিলা।
এদিন থানা ঘেরাও নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা ও হাতাহাতি হয়। পুলিশের অভিযোগ, থানায় ভাঙচুর চালিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। সেই অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে। পরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মধ্যমগ্রাম থানায় যান বারাসত জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।