
শেষ আপডেট: 7 November 2023 16:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: দুদিন আগেই হাওড়ার দুটি জায়গায় হানা দিয়েছিল ইডি। ডোমজুরের একটি আটাকলে অভিযান চালানোর পরে উলুবেড়িয়ার কুলগাছিয়ার একটি রাইস মিলে হানা দিয়েছিলেন ইডির আধিকারিকরা। রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তের গভীরে যেতেই ইডির হাতে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
উলুবেড়িয়া-২ ব্লকের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলে একটি চমকপ্রদ তথ্য জানা যায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, কুলগাছিয়ায় ওই রাইস মিল কর্তৃপক্ষ এজেন্টের মাধ্যমে এলাকার বাসিন্দাদের তথ্য নিয়ে, তাঁদের নামে অ্যাকাউন্ট খুলেছিল। গ্রামবাসীদের ওই অ্যাকাউন্টেই ঢুকত ধান বিক্রির টাকা। কারও অ্যাকাউন্টে আসত ৫০ হাজার টাকা, কারও বা ৪০ হাজার।
গ্রামবাসীদের দাবি, এই সমস্ত এজেন্টরা তাঁদের কাছে এসে বলতেন, ব্যাঙ্কের পাসবই থাকলেই তাঁরা টাকা পাবেন। কাড়ি কাড়ি টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকতে দেখে সন্দেহ হলেও রাইস মিল কর্তৃপক্ষের ফাঁদে পা দিয়ে ফেলেছিলেন অনেকেই। ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে কাউকে কিছু বলতেও পারেননি তাঁরা। স্থানীয়রা বলছেন, রেশন দুর্নীতির টাকাই নাকি ওই সমস্ত অ্যাকাউন্ট ঢুকেছিল। সেই সমস্ত টাকা তুলে নিয়ে তাঁদের হাতে সামান্য টাকা ধরিয়ে দেওয়া হত।
এই ঘটনায় সঞ্জয় মান্না নামে এক যুবকের কথা জানা গিয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সঞ্জয়ই নাকি চালকলের হয়ে গ্রামবাসীদের তথ্য সংগ্রহ করত। যদিও এবিষয়ে সঞ্জয় দাবি করেছেন, তাঁর কাছে রাইস মিলের লোক আসত। তারা টাকা দিয়ে যেত। তিন বছর ধরে এই কাজ তিনি করে আসছেন। এই টাকা ধান বিক্রির টাকা বলেই দাবি করেছেন তিনি। সঞ্জয় জানিয়েছেন, এলাকায় ক্যাম্প করে কৃষি উন্নয়ন সমিতি খোলা হয়েছিল। সেখানে প্রায় পাঁচশ থেকে সাতশ জন গ্রামবাসীর অ্যাকাউন্ট রয়েছে।