দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১০ বছর আগে হারিয়ে গিয়েছিল কিশোর ছেলে। অবশেষে পরিবারে ফেরা হল। এখন তিনি ২৫ বছরের যুবক। কখনও স্বপ্নেও ভাবেননি, খোঁজ পাবেন পরিবারের। লকডাউনের সৌজন্যেই ঘটে গেল এমনটা।
পুলিশ জানিয়েছে, ২৫ বছরের ওই যুবক আজন্ম মূক ও বধির। তাঁর নাম লক্ষ্মীদাস মাণিকপুরী। মহারাষ্ট্রে শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি। ১০ বছর আগে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভাগ্যের ফেরে গিয়ে পৌঁছেছিলেন সেখানে। শুধু আবছা মনে ছিল, মধ্যপ্রদেশে থাকতেন তিনি। আর কিছুই মনে ছিল না। মধ্যপ্রদেশে গিয়ে পরিবারকে খোঁজাও সম্ভব ছিল না মূক ও বধির ওই কিশোরের পক্ষে। তাই এত দিন শ্রমিকদের মধ্যেই থেকেছেন, কাজ করেছেন। ঘর খোঁজা হয়নি কখনওই।
লকডাউনে সব ওলোটপালোট হয়ে গেল। কাজ বন্ধ, বেতন বন্ধ। ঘরভাড়া দেওয়ার পয়সা নেই, খাবার নেই। নিজের গ্রামে নিজের বাড়িতে ফেরার জন্য মরিয়া সমস্ত শ্রমিক। কিন্তু লক্ষ্মীদাস তো জানেন না, কোথায় যাবেন তিনি।
৬১ জন শ্রমিকের সঙ্গে ট্রাকে উঠে পড়েন শেষমেশ। এপ্রিল মাসের গোড়ায় লুকিয়ে লুকিয়ে ওই ট্রাকে করে মধ্যপ্রদেশ হয়ে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে ফিরছেলেন শ্রমিকরা। ধরা পড়ে যান মধ্যপ্রদেশের বরওয়ানি জেলা পার করার সময়। সকলকে আটকে জামলি গ্রামে কোয়ারেন্টাইন করে পুলিশ। তার পরে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করে প্রত্যেক শ্রমিককে আলাদা আলাদা করে।
কিন্তু লক্ষ্মীদাস কিছুই বলতে পারেন না, কোথায় তাঁর বাড়ি, কী তাঁর ঠিকানা। লিখেও বোঝাতে পারেন না কিছুই। যাই জিজ্ঞেস করা হয়, ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন অসহায় ভাবে। পুলিশ জানিয়েছে, ভারতের একটি ম্যাপে আঙুল দিয়ে একটা জায়গা দেখান তিনি। তবে সেটিও নির্দিষ্ট কিছু নয়।
পুলিশ ইনস্পেক্টর ভিকে যাদব বলেন, "আমরা আন্দাজ করেছিলাম, ও ছত্তীসগড় দেখাতে চাইছে। কিন্তু আমরা নিশ্চিত ছিলাম না। ছত্তীসগড়ের কোথায়, তা তো জানতামই না।"
কিন্তু সামান্য আন্দাজের ওপর ভর করেই লক্ষ্মীদাসের ছবি পাঠিয়ে দেওয়া হয় ছত্তীসগড়ের সমস্ত পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে দেওয়া হয় লক্ষ্মীদাসের ছবিটি। কোরবা জেলার কালেক্টর অজয় উরাও-ও ছবিটি পান।
এর পরেই তিনি জানতে পারেন, তাঁরই জেলায় কাঠঘোড়া গ্রামে বছর দশেক আগে হারিয়ে যাওয়া কিশোর ছেলেটিরই ছবি এটি। সূত্র খুঁজে পেয়ে পুলিশের সঙ্গে যুবকের বাবা ইতওয়ার দাস মাণিকপুরীর যোগাযোগ করিয়ে দেন জেলাশাসক অজয় উরাও।

খবর পেয়ে যুবকের বাবার ফোনে ভিডিও কল করে লক্ষ্মীদাসকে দেখান পুলিশকর্তারা। মোবাইলের স্ক্রিনে ছেলেকে দেখেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মা। মায়ের চোখ ভুল করেনি সন্তানকে চিনতে, মাঝে যতই পেরোক দশটা বছর।
এর পরেই লক্ষ্মীদাসের বাবা জলে আসেন জামলি। ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। খুশি যেন বাঁধ মানছিল না তাঁর। লক্ষ্মীদাস নিজেও গোটা ঘটনায় বিস্মিত ও আনন্দিত। ভাবতেই পারেননি, তাঁর নিজের পরিবারের সঙ্গে দেখা হবে। লকডাউন সেটাই সম্ভব করে তুলল।