দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোনা আসছিল ব্যাঙ্ক থেকে, যাচ্ছিল ভগবানের কাছে। নির্বাচনের আগে সোনার যাতায়াত সহজ ভাবে নিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। ফলে মাঝপথ থেকেই সোনা বাজেয়াপ্ত। কিন্তু তিনদিন যেতে না যেতেই সেই বাজেয়াপ্ত সোনা ফিরে গেল যথাস্থানে। তিরুপতির বালাজি ফিরে পেলেন তাঁর নিজস্ব সম্পদ– ১,৩৮১ কেজি স্বর্ণালঙ্কার।
তিন বছর আগে তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানম অন্ধ্র ব্যাঙ্ক ও পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের কাছে ৮,৫০০ কেজি সোনা গচ্ছিত রাখে। তারই মধ্যে ১,৩৮১ কেজি সোনা গচ্ছিত রাখার মেয়াদ সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় দেবস্থানম থেকে ব্যাঙ্কের কাছে নির্দেশ যায় সেই সোনা দেবস্থানমকে ফিরিয়ে দেওয়ার। চেন্নাইয়ের পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক থেকে কয়েকটি গাড়ি দশজন সশস্ত্র রক্ষী ও ব্যাঙ্কের আধিকারিককে নিয়ে রওয়ানা হয় তিরুপতির উদ্দেশ্যে। যাত্রার শুরুতেই এমন 'শোভাযাত্রা' নজরে পড়ে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের। থামানো হয় গাড়ি। শুরু হয় তল্লাশি। আর সেই তল্লাশি চালাতে গিয়ে কমিশনের আধিকারিকদের চোখ কপালে উঠে যাওয়ার জোগাড়। গাড়িগুলিতে ৫৬টি বাক্স রয়েছে যার প্রত্যেকটিতে রয়েছে ২৪ কেজিরও বেশি সোনা। সব মিলিয়ে হিসেব করে দেখা যায় সোনার পরিমাণ ১,৩৮১ কেজি।
কমিশন সূত্রে জানানো হয়, সোনা স্থানান্তরের দায়িত্বে যে ব্যাঙ্ক আধিকারিক ছিলেন তিনি কমিশনের আধিকারিকদের কাছে এমন কোনও নথি দেখাতে পারেননি যাতে প্রমাণ হয় যে এই সোনা তিরুমালা তিরুপতি দেস্থানমের এবং তাদের কোষাগারে জমা করার জন্যই ব্যাঙ্ক থেকে এই সোনা চলেছে বালাজি মন্দিরের উদ্দেশ্যে। নির্বাচনের আগে যেখানে ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য বহু জায়গায় হিসেব বহির্ভূত অর্থের লেনদেন চলছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে বারবার অভিযোগ তোলা হচ্ছে সেখানে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার সোনার 'অস্বচ্ছ' গমনাগমন ছেড়ে দেওয়া কমিশনের আধিকারিকদের পক্ষে খুব সঙ্গত কারণেই সম্ভব ছিল না। অতএব সোনা বাজেয়াপ্ত করে কমিশন সেই সম্পদ পুনামাল্লি পুলিশ স্টেশনে জমা করে দেন।
দেশের ধনীতম মন্দির তিরুপতির সোনা বাজেয়াপ্ত হওয়ায় প্রবল শোরগোল তৈরি হয়। পঞ্জাব ব্যাঙ্কের আধিকারিকরা সেই রাতেই চেন্নাই থেকে তিরুপতি রওয়ানা হন এবং দেবস্থানমের চিঠি নিয়ে এসে সোনা 'মুক্ত' করেন। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই সেই সম্পদ মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিগত তিনদিন ধরে জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা ও বিবিধ আইনি পদক্ষেপ প্রহণ করার পর অবশেষে শনিবার সন্ধ্যায় সোনা পৌঁছয় তিরুপতি মন্দিরে।