
শেষ আপডেট: 18 July 2019 18:30
নীল আর্মস্ট্রং, এডুইন (বাজ) অলড্রিন এবং মাইকেল কলিন্স।[/caption]
প্রায় আড়াই ঘণ্টা স্পেসক্রাফ্টের বাইরে চন্দ্র-সফর করেছিলেন আর্মস্ট্রং ও অলড্রিন। চাঁদের পিঠ থেকে কুড়িয়ে এনেছিলেন ৪৭.৫ পাউন্ড (২১.৫ কেজি) নমুনা বা ‘লুনার মেটিরিয়াল।’
পৃথিবী থেকে উৎক্ষেপণ এবং ফের পৃথিবীতে অবতরণ— এই মিশনটা সম্পূর্ণ হতে মোট সময় লেগেছিল ৮ দিন ৩ ঘণ্টা এবং ১৮ মিনিট। ফিরে এসে তিন মহাকাশচারীই জানিয়েছিলেন, নমুনা সংগ্রহ চাঁদের ‘ট্র্যানকুইলিটি বেস’-এ তাঁরা পৃথিবীর সময়ের মোট ২১ ঘণ্টা ৩১ মিনিট সময় কাটিয়েছিলেন। পৃথিবীতে ফিরে এসেছিলেন ২৪ জুলাই।



'স্যাটার্ন ৫' রকেটের উৎক্ষেপণ এবং চাঁদের পিঠে 'অ্যাপোলো ১১'-এর নানা ছবি। সৌজন্যে: নাসা
নাসার ‘অ্যাপোলো প্রোগ্রাম’নিয়ে চর্চা বিস্তর হয়েছে। নিল আর্মস্ট্রং, বাজ অলড্রিনরা সত্যিই চাঁদের মাটিতে নেমেছিলেন কি না, সেই নিয়ে নানা সময়ে তর্ক-বিতর্ক চলেছে। মানবসভ্যতার সেই ‘প্রথম চন্দ্র-বিজয়’-এর যাবতীয় ছবি ও ভিডিয়ো যা নাসা সামনে এনেছিল, সেটা আদতে সত্যি ছিল না ধাপ্পা, সেই নিয়ে চর্চা এখনও রয়েছে। এমনকি খোদ আমেরিকাও প্রথম চন্দ্রাভিযানের সত্যতাকে নস্যাৎ করেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেছে নেওয়া তাঁর বিজ্ঞান-প্রযুক্তি উপদেষ্টা বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ডেভিড গেলার্নটার এক সময়ে ঘোষণা করেছিলেন চাঁদের মাটিতে নাকি পাই রাখেননি নীল আর্মস্ট্রং। শুধু আমেরিকা নয়, বিশ্বের নানা দেশের বিজ্ঞানীমহলে এ বিষয়ে চর্চা শুরু হয়েছিল। প্রমাণ হিসেবে বলা হয়েছিল, চাঁদের মাটিতে পোঁতা মার্কিন পতাকা দেখে মনে হয়েছে সেটি যেন হাওয়ায় নড়ছে। অথচ বায়ুমণ্ডল নেই, তাই বাতাস-হীন চাঁদের মাটিতে পতাকা উড়ছে কী ভাবে?
(বাঁ দিকে) ১৮ এপ্রিল, ১৯৬৯। তৈরি হচ্ছেন নীল আর্মস্ট্রং। (ডান দিকে) কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড।

১৬ জুলাই। রকেটের উৎক্ষেপণ। কন্ট্রোল রুমে চলছে প্রতীক্ষা।
দ্বিতীয়ত, চাঁদে আলোর উৎস একটাই। সূর্য। কিন্তু, নাসার প্রকাশিত ছবিতে বিভিন্ন বস্তুর বিভিন্ন রকমের ছায়া দেখা গিয়েছে। যা একমাত্র সম্ভব আলোর একাধিক উৎস থাকলে। নাসার দাবি ছিল, চাঁদের বুকে সূর্যের আলো পাহাড়ে প্রতিফলিত হয়ে এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছিল। [caption id="attachment_125345" align="aligncenter" width="647"]
চাঁদ থেকে কুড়িয়ে আনা পাথর। এখন যেগুলো রাখা আছে টেক্সাসের ম্যানড স্পেস ক্রাফট সেন্টারে।[/caption]
তৃতীয়ত, চন্দ্রাভিযানের ছবি প্রকাশের পর আরও একটি প্রশ্ন ওঠে। চন্দ্রাভিযানের যে ছবি নাসা প্রকাশ করেছিল, তাতে দেখা গিয়েছিল মহাকাশচারীর হেলমেটের কাচে একটি অস্পষ্ট ছবি ধরা পড়েছে। যেখানে দড়ি বা তারে ঝুলছে কোনও একটি বস্তু। এমন দৃশ্য নাকি ফিল্ম স্টুডিওয় দেখা যায় বলে দাবি করেছিল বিজ্ঞানীদের একাংশ। যুক্তি-পাল্টা যুক্তি আরও ছিল। বিজ্ঞানীদের প্রশ্নের সপক্ষে নানা প্রমাণও পেশ করেছিল নাসা।
https://www.youtube.com/watch?v=UExTN3_UOIY
তবে বিতর্ক যাই থাক, ২০ জুলাই মানেই চাঁদের মাটিতে প্রথম পা। ঐতিহাসিক ‘অ্যাপোলো মোমেন্ট’। ওয়াশিংটন ডিসিতে বিখ্যাত ওয়াশিংটন মনুমেন্টের সামনে এখন সাজো সাজো রব। ‘অ্যাপোলো ১১’-এর ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রোজেক্টরের মাধ্যমে ৩৬৩ ফুট দীর্ঘ রকেট ‘স্যাটার্ন ৫-এর উৎক্ষেপণ দেখানো হবে। দেখানো হবে কেনেডি স্পেস সেন্টারে সে দিনের কাউন্ট ডাউন, ‘অ্যাপোলো ১১’-এর দুষ্প্রাপ্য সব ছবি।
১৬ জুলাই, ১৯৬৯ পৃথিবীর মাটি ছেড়েছিল ‘অ্যাপোলো ১১।’ ঘটনাচক্রে চার দিন আগে ১৫ জুলাই চন্দ্রাভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছিল ভারত। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে থমকে যায় ‘চন্দ্রযান ১’-এর উৎক্ষেপণ। ‘অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন’-এর আবহেই ফের ২২ জুলাই চাঁদে পাড়ি জমাবে ইসরো। প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে কোটি কোটি ভারতবাসী।