দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিকিৎসকেরা বলেন, সদ্যোজাত সন্তানের সঙ্গে মায়ের বন্ধনই হোক, বা তার প্রতি মায়ের দায়িত্বই হোক, আবার সন্তানের পূর্ণ বিকাশই হোক--- এ সব কিছুর সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য ভাবে জড়িয়ে আছে স্তন্যপান। কিন্তু এই পদ্ধতিতে কি বাবার কোনও ভূমিকাই থাকবে না? কেন থাকবে না। আর তা থাকবে মায়ের সমানই। তাই এবার থেকে সন্তানকে স্তন্যপান করাতে পারবেন বাবারাও!
লন্ডনের সেন্ট্রাল সেন্ট মার্টিন ইউনিভার্সিটির এক দল গবেষক দাবি করেছেন, তাঁরা এক বিশেষ 'ব্রেস্টফিডিং কিট' আবিষ্কার করেছেন, যার মাধ্যমে পুরুষেরাও স্তন্যপান করাতে পারবেন সন্তানকে। মেরি ক্লেয়ার স্প্রিংহ্যাম নামের এক গবেষকের কথায়, "একে আক্ষরিক অর্থে ব্রেস্টফিডিং বলা না গেলেও, চেস্টফিডিং বলাই যায়।"
মেরি জানিয়েছেন, এই কিট এখনও ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় আসেনি। কাজ চলছে। কিন্তু তৈরি হওয়ার পরে বহু বাবাই সন্তানকে খাওয়াতে পারবেন নিজের বুকের দুধ। মায়েদের অনেকটাই সুবিধা হবে এতে। তাঁর দাবি, হরমোনের পরিবর্তন ঘটিয়ে পুরুষদেহে দুগ্ধ গ্রন্থি তৈরির কাজ করবে এই বিশেষ কিটটি।
মা অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থাতেই এই কিটটি লাগিয়ে দিতে হবে বাবার শরীরে। ন'মাস পরে যখন মা সন্তানের জন্ম দেবেন, তখন মায়ের মতোই বাবার শরীরেও দুধ উৎপন্ন হবে বলে দাবি করছেন এই কিটনির্মাতা গবেষকেরা। নারী শরীরের বিশেষ হরমোন প্রোজেস্টিনকে কাজে লাগিয়ে এই অসাধ্য সাধন হবে বলে জানা গিয়েছে। এই হরমোনই দুগ্ধগ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে দুধ তৈরি করবে। দুধের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য পরে ডোমপেরিডন হরমোনও ব্যবহার করা হবে এই কিটে।
এই চেস্টফিডিং কিটে একটি পাম্পও থাকবে, যেটি মায়েদের মেটারনিটি ব্রা-এর মতো দেখতে। ফলে সন্তান বাবার থেকে দুধ খাওয়ার সময়ে মায়ের স্তনের মতোই স্পর্শও পাবে। "আমরা এমন একটা জিনিস তৈরি করার চেষ্টা করছি, যেটা মায়েদের ঝক্কি খানিকটা কমিয়ে ভাগাভাগি করে দেবে বাবার সঙ্গে।"
যদিও কিটটি তৈরি হওয়ার আগেই নানা মহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক। অনেকেই দাবি করছেন, এই কিট ব্যবহার করে শারীরিক সমস্যায় পড়তে পারেন বাবারা। অনেকে আবার বলছেন, নারী হরমোন প্রোজেস্টিনের প্রভাবে পুরুষদের বুকের গঠন মেয়েদের মতো হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও, পুরুষদের কাছে এই কিটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।