দ্য ওয়াল ব্যুরো: জওয়ানদের নিম্ন মানের খাবার দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করে বরখাস্ত হয়েছিলেন বিএসএফের এই ‘বিদ্রোহী’ জওয়ান তেজবাহাদুর যাদব। সালটা ২০১৭। তারপর তাঁকে নিয়ে টানা হ্যাঁচড়া কম হয়নি। মামলা গড়ায় আদালত পর্যন্ত। বিএসএফের কোর্ট অব এনকোয়ারিতে স্বচ্ছ বিচার না পেয়ে শেষে বরখাস্ত হতে হয়েছিল এই তেজবাহাদুরকে। তবে দমে যাননি তিনি। ফের ময়দানে উত্তীর্ণ হয়েছেন এক নয়া ভূমিকায়। নির্বাচনে জোর টক্কর দিতে চলেছেন খোদ প্রধানমন্দ্রী নরেন্দ্র মোদীকে। তাও আবার প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসী থেকেই।
হরিয়ানার রেওয়ারিতে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তেজবাহাদুর বলেছেন, "একাধিক দল নির্বাচনী প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু, বারাণসী থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধেই নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়াব আমি। " প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তাঁরই নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য পুরনো সেই ক্ষোভই কারণ কিনা সে বিষয়ে অবশ্য মুখ খোলেননি তেজবাহাদুর। তবে নির্দল প্রার্থী হিসাবেই মোদীকে জোর টক্কর দিতে চান, এই কথা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন তিনি।
তেজবাহাদুরের দাবি, বিএসএফ জওয়ানদের উপর অনেক অনাচার হয়। পরিস্থিতির চাপে মুখ খুলতে ভয় পান তাঁরা। সেই অনাচার দূর করার জন্যই ভোটের ময়দানে আগমন তাঁর। বলেছেন, "দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খোলায় আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী আমার আশাভঙ্গ করেছিলেন। এ বার এই দুর্নীতির বিরুদ্ধেই আমার লড়াই।"
২০১৭ সালে গোড়ার দিকে ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করে খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন বিএসএফ জওয়ান তেজবাহাদুর যাদব। সে সময় তিনি জম্মু-কাশ্মীরে কর্মরত ছিলেন। খাবারের ছবি দেখিয়ে ফেবসুক ভিডিওয় তিনি দাবি করেছিলেন, বিএসএফ জওয়ানদের অত্যন্ত নিন্মমানের খাবার দেওয়া হয়। সেই ভিডিও নিমেষে ভাইরাল হয় এবং গোটা দেশে বিতর্কের ঝড় ওঠে। সেনা বাহিনী বা আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানদের খাওয়া-দাওয়ার মান সুনিশ্চিত করার বিষয়ে কেন সতর্ক থাকে না কর্তৃপক্ষ, এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে বিএসএফ জওয়ানের অভিযোগ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং বিএসএফ-এর কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করে প্রধানমন্ত্রীর দফতর। দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়। তবে শেষমেশ তেজবাহাদুরের আনা অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করে বিএসএফ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ না জানিয়ে তেজবাহাদুর ফেসবুকে অভিযোগ জানানোয়, তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ওঠে এবং তাঁকে বিএসএফের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়।