
শেষ আপডেট: 21 December 2023 18:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: বুধবার সকাল থেকে তৃণমূল বিধায়ক বাইরন বিশ্বাসের বাড়ি ও কর্মস্থলে একযোগে হানা দেয় আয়কর দফতর। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার সকালে শেষ হয় অভিযান। আয়কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বাইরনের বিরুদ্ধে। তবে জেলার মানুষ বলছেন, ব্যবসাটা তাঁর পৈত্রিক। বাইরন নানা কাজে ব্যস্ত, তাঁর বাবা ও ভাই মিল্টনই সব সামলান। বাইরন অনেকটাই তবলার বাঁয়া।
সামসেরগঞ্জে বাড়ি বাইরন বিশ্বাসের। ধুলিয়ানের ডাকবাংলো মোড়ে তাঁর স্কুল ও হাসপাতাল। এছাড়াও রয়েছে বিড়ি কারখানা ও কেমিক্যাল তৈরির কারখানা। পুরোটাই পৈত্রিক ব্যবসা। তবে সাগরদিঘির তৃণমূল বিধায়ক বাইরন নিজে কেমিক্যাল কারখানাটি দাঁড় করিয়েছেন বলে খবর। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বাইরনরা বরাবরই ধনী। পূর্বপুরুষের প্রচুর টাকা রয়েছে। দীর্ঘদিনের ব্যবসা। এখন বাইরনের তুলনায় তাঁর বাবা ও ভাইই ব্যবসায় বেশি সক্রিয়।
স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে আসাতেই নিশানা করা হয়েছে বাইরনকে। বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে হেনস্থাও সেই একই কারণে। বাইরনের বাড়িতে বুধবার সকালে তল্লাশি অভিযানে নেমেছিল আয়কর দফতর। ধুলিয়ানের ডাকবাংলোয় তাঁর বাড়ি থেকে ইতিমধ্যে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৭১ লক্ষ টাকা। তা ছাড়া কিছু সোনার গয়নাও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান আয়কর অফিসাররা। এরপরেই জোর দেওয়া হয় উলুবেড়িয়ায় তাঁদের কাগজ কারখানায় তল্লাশিতে। বুধবার দুপুর ১টা নাগাদ আয়কর দফতরের একটি টিম ঢুকেছিল কৃষ্ণা টিস্যুস প্রাইভেট লিমিটেড নামে কারখানায়।
বুধবার তল্লাশি চলাকালীন বাইরন শারীরিক অসুস্থতা বোধ করেন। তাঁকে নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। সাগরদিঘির উপ নির্বাচনে বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী ছিলেন বাইরন। টাকার জোর থাকাতেই তাঁকে কংগ্রেস প্রার্থী করে বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান। যাতে প্রচারের খরচ বাইরন নিজেই বহন করতে পারে। কিন্তু ভোটে জেতার তিন মাসের মধ্যে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন।