
শেষ আপডেট: 20 October 2022 13:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র দেড় মাসের মাথায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর (UK PM) পদ থেকে ইস্তফা দিলেন (resigns) লিজ ট্রাস (Liz Truss)। ডাউনিং স্ট্রিটে সরকারি বাসভবনের বাইরে একটি বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার এ কথা ঘোষণা করেছেন কনজারভেটিভ দলের নেত্রী ট্রাস।
ট্রাস জানিয়েছেন, যে প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন, তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। বিষয়টি ইতিমধ্যেই রাজা চার্লসকে অবগত করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও জানিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই কনজারভেটিভ দলের নির্বাচন হবে। যোগ্য উত্তরসূরী নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
গত কয়েকদিন ধরেই নিজের দল, এবং বিপক্ষ, দুই দলেরই কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ছিলেন লিজ। বুধবারই লিজের মন্ত্রিসভা ছেড়ে বেরিয়ে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রেভারম্যান। তিনি পরিষ্কারভাবেই জানিয়ে দেন, নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা পূরণ করছে না সরকার। এছাড়া আরও একটি বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলেন সুয়েলা। তিনি জানান, নিয়ম ভেঙে ব্যক্তিগত ইমেল মারফত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি এক সাংসদকে পাঠিয়েছিলেন তিনি। সব দায় স্বীকার করে তাঁর পদত্যাগ আরও চাপে ফেলে দেয় নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে।
আর্থিক নীতি ঘিরে ক্রমশই সমালোচনার মুখে পড়ছিলেন লিজ ও তাঁর মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার পরেই কর্পোরেট কর ছাড়ের কথা ঘোষণা করেছিলেন লিজ। কিন্তু সেই কারণে আচমকাই কমে যায় পাউন্ডের দাম। এছাড়া ব্রিটেনের জনগণের উপর থেকে করের বোঝা কমানোর কথাও ঘোষণা করেছিলেন তিনি। কিন্তু কোনও প্রতিশ্রুতিই পূরণ করতে পারেনি তাঁর সরকার। এই কারণে চলতি সপ্তাহেই অর্থমন্ত্রী কোয়াসি কোয়ারটেংকে পদ থেকে সরিয়ে দিতে একপ্রকার বাধ্য হন লিজ। তাঁর সরকারের আর্থিক নীতিকেও বাতিল করে দেওয়া হয়। নিজের দল কনজারভেটিভ পার্টির একের পর এক সদস্য ক্রমশই বিরক্ত হয়ে উঠছিলেন লিজের কাজে। দলের ভিতরে এবং বাইরে ক্রমশই জোরালো হয়ে উঠছিল ট্রাসের পদত্যাগের দাবি। অবশেষে সেই দাবি মেনেই নির্বাচিত হওয়ার ৭ সপ্তাহের মাথাতেই সরে দাঁড়ালেন লিজ।
গত ৫ সেপ্টেম্বর নিকটটম প্রতিদ্বন্দ্বী ঋষি শুনককে হারিয়ে ব্রিটিশ প্রধামন্ত্রীর কুরশি দখল করেছিলেন লিজ। কিন্তু ৪৫ দিনের মাথাতেই তাঁর পদত্যাগে নারায়ণমূর্তির জামাই ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষিরই যুক্তরাজ্যের মসনদে বসার সম্ভাবনা আরও জোরদার হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
স্কুলে প্রধানমন্ত্রী সেজে হেরে গিয়েছিলেন, বসলেন তাঁর চেয়ারেই, একনজরে লিজ