
শেষ আপডেট: 20 December 2023 15:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিনটা ছিল ২৪ নভেম্বর। সেদিনের সন্ধেবেলার সেই ঘটনা এখনও ভুলতে পারছেন না মিতা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর শরীরে একের পর এক কোপ মেরেই চলেছিল প্রেমিক। প্রাণভয়ে ভাড়া বাড়ি থেকে দৌড়ে রাস্তায় বেরিয়ে এসেছিলেন তিনি। আশ্রয় নিয়েছিলেন প্রতিবেশীর বাড়িতে। প্রেমিক বাবু হালদার পালিয়েছিল। বেশ কিছুদিন ধরে চেষ্টা করলেও পুলিশ তার টিকিও ছুঁতে পারেনি। এদিক সেদিক পালিয়ে বেড়ানোর পর শেষমেশ স্ত্রীর কাছে ফিরে গিয়েছিল বাবু। সংসার করছিল জমিয়ে। যদিও শেষরক্ষা হল না। পুলিশের হাতে ধরা পড়ে গেল প্রেমিকাকে খুনের চেষ্টায় অভিযুক্ত বাবু হালদার।
বাবু হালদার রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার অস্থায়ী কর্মী। সে কাজ করত গড়িয়া স্টেশনের কাছে বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। সেখানেই মিতা গায়েন নামে এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল তার। স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও মিতার সঙ্গে প্রেমপর্ব শুরু হয় বাবুর। এমনকী, সেই প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ঘর ভাড়া নিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে থাকতে শুরু করেছিল বাবু।
কিন্তু ছন্দপতন ঘটেছিল যখন মিতা সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চান। অভিযোগ, সেই রাগেই তাঁকে বেধড়ক মেরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে শুরু করেছিল বাবু। প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে গত ২৪ নভেম্বর রক্তাক্ত মিতাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিল পুলিশ। চিকিৎসার পর এখন কিছুটা সুস্থ হয়েছে তরুণী। কিন্তু সেই ঘটনার পর বাবুর সন্ধান পায়নি পুলিশ।
এমনকী, সে মোবাইল বন্ধ করে রাখায় কিছুতেই তার লোকেশন ট্র্যাক করা যাচ্ছিল না। পরে মোবাইল অন করতেই ফেঁসে যায় সে। টাওয়ার লোকেশন ধরে তাকে দাসপাড়া থেকে পাকড়াও করে পুলিশ। জানা গেছে, এই প্রায় এক মাসে বারুইপুরের বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়িয়েছে সে। শেষমেশ স্ত্রীর সঙ্গে মিটমাট করে নিয়ে দাসপাড়ায় থাকতে শুরু করেছিল অভিযুক্ত। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে। বুধবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে বাবু হালদারকে।