দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাতের আঁধার নামলেই বুক দুরুদুরু করত গ্রামবাসীদের। এই বুঝি হানা দেয় বুনো হাতির পাল! দিনেদুপুরেই তো বটেই, মাঝরাতে সপরিবারে হানা দিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর চালাতেই বেশি আনন্দ তাদের। নির্বিঘ্নে জমির ফসলও তছনছ করে দিয়ে যায়। আর বুনো দাঁতালের মুখোমুখি পড়ে গেলে আর রক্ষা নেই। শুঁড়ে পেচিয়ে, পায়ে দলে চিড়েচ্যাপ্টা করে দিয়ে যাবে। এই হাতি তাড়াতেই বন দফতরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মোক্ষম ফন্দি এঁটেছেন গ্রামবাসীরা।
মশাল জ্বেলে, ক্যানেস্ত্রা পিটিয়ে হাতি তাড়ানোর পদ্ধতি পুরনো হয়ে গেছে। হাতিরাও নাকি এখন এসবে বিশেষ ভয় পায় না। লাঠি নিয়ে তেড়ে গেলে পাল্টা তারাও শুঁড় উঁচিয়ে তেড়ে আসে। তবে হ্যাঁ, বুনো হাতির পাল ভয় পায় একটা জিনিসে। সিংহের গর্জন। রেকর্ড গড়া সিংহনাদ শুনিয়ে বনকর্মীরা দেখেছেন সেই আওয়াজে দুড়দাড় করে পালাচ্ছে হাতি। শাবকদের পায়ের ফাঁকে রেখে লেজ তুলে ছুটছে মা হাতিও। এই পদ্ধতিই মনে ধরেছে বন দফতরের।
বুনো হাতি খেদানোর এমন অভিনব উপায় বার করেছে উত্তরপ্রদেশের বন দফতর। সোনভদ্র জেলার কয়েকটি গ্রামে এই পদ্ধতিতে কাজও হয়েছে যথেষ্ট। একবার সিংহের গর্জন কানে গেলে অন্তত এক সপ্তাহ সেই জায়গায় হানা দেয় না হাতি। ফলে একটু স্বস্তির মুখ দেখেছেন গ্রামবাসীরাও।
সোনভদ্রের রামপাকুরার ও সংলগ্ন কয়েকটি গ্রাম বুনো হাতির হানায় জেরবার। দিনে-রাতে যখন তখন হানা দেয় হাতির পাল। ঘরবাড়ি ভাঙে, জমির ফসল খেয়ে যায়। মানুষজনও মারে। রামপাকুরারের বাসিন্দা মান সিং জানিয়েছেন, চলতি মাসের প্রথমেই ২০টি হাতির একটি দল হামলা চালিয়েছিল গ্রামে। তছনছ করে দিয়েছিল গোটা গ্রামটাই। শুঁড়ে তুলে আছড়ে মেরেছিল বছর পঁচিশের এক যুবককে। এর পরেই গ্রামবাসীরা সমবেতভাবে ক্ষোভ জানায় বন দফতরে।
সোনভদ্রের ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার এমপি সিং বলেছেন, “বুনো হাতি তাড়াতে গিয়ে আমাদের কর্মীরাও জখম হয়েছেন অনেকবার। তাই এই উপায় বার করেছি আমরা। রাতের বেলা লাউডস্পিকারে সিংহের গর্জন চালিয়ে দেওয়া হয় গ্রামে। এই আওয়াজ শুনলে হাতি আর গ্রামের ত্রিসীমানায় আসে না।”
লোকালয়ে ঢুকে পড়া বুনো হাতি তাড়াতে গিয়ে রীতিমতো কালঘাম ছোটে বনকর্মীদের। ফরেস্ট অফিসারের কথায়, এক দিকে হাতির হানায় প্রাণ যাওয়ার আশঙ্কা। প্রাণরক্ষায় গুলি চালালে সাসপেন্ড! সে সব না হলেও হাতি তাড়াতে দেরি হলে আম জনতা চড়াও হচ্ছেন তাঁদের উপরে। জঙ্গলে কমেছে হাতির খাদ্য। তাই বসতিতে হানা দিচ্ছে তারা। হাতি তাড়ানোর মতো পর্যাপ্ত বনকর্মী বা পরিকাঠামো সব এলাকায় থাকে না। তাই প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই হাতি তাড়াতে যাচ্ছেন বনকর্মীরা। অনেক প্রাণহানিও হয়েছে। নতুন টোটকা মনে ধরেছে গ্রামবাসীদেরও। গত কয়েকদিনে রামপাকুরার ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামে এইভাবে সহজেই বুনো হাতির পাল তাড়ানো গিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।